সুবীর মহন্ত, বালুরঘাট: মাথার উপর তারের জঙ্গল। বিদ্যুতের খুঁটিগুলিতে তারের কুণ্ডলি বা ঝুলতে থাকা তারের গোছা। কোথাও আবার বাড়ির ছাদ ছুঁয়ে চলে গিয়েছে বিদ্যুৎ পরিবাহী তার। কেবল টিভি এবং বিভিন্ন ইন্টারনেট সংস্থার কেবল এক খুঁটি থেকে অন্য খুঁটিতে যাওয়ার পথে জট পাকিয়েছে। এমন পরিস্থিতির জন্য প্রায়দিনই শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এবং বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে একাধিক এলাকা। এমন পরিস্থিতির বদল এবার ঘটছে দক্ষিণ দিনাজপুরের (Dakshin Dinajpur) বালুরঘাট (Balurghat) শহরে। এই শহরে মাথার উপর দিয়ে আর থাকবে না বিদ্যুতের তার। উত্তরের অলিখিত রাজধানী শিলিগুড়ির মতো দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলা শহরে ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ পরিবাহী কেবল পাতার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানি। প্রাথমিকভাবে ডিটেইল প্রোজেক্ট রিপোর্টে (ডিপিআর) প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা খরচ ধরা হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রকল্পের ডিপিআর রাজ্যের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পের পরবর্তী প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা সফরের পরেই প্রকাশ্যে এল, এবার বালুরঘাট শহরে বিদ্যুৎ পরিবাহিত হবে ভূগর্ভস্থ কেবলের মাধ্যমে। স্বাভাবিকভাবেই এমন পরিকল্পনা নিয়ে শহরে চর্চা শুরু হয়েছে। বর্তমানে শহরের বিভিন্ন জায়গায় কভারড কেবল থাকলেও পরিস্থিতি যে যথেষ্ট উদ্বেগজনক, তা অস্বীকার করছে না বিদ্যুৎ দপ্তর। যে কারণে শর্টসার্কিটের ঘটনা অনেকটা কমলেও, পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এখনও খুঁটিগুলিতে বিদ্যুতের তারের পাশাপাশি জড়িয়ে রয়েছে বিভিন্ন সংস্থার কেবল। কোথাও তারের গোছা এতটাই ঘন যে খুঁটির মাথা বা একাংশ দেখা যায় না। তার উপর শহরের বেশ কিছু জায়গায় বাড়ি বা বহুতলের একেবারে গা ঘেঁষে চলে গিয়েছে হাইভোল্টেজ তার। কোনও কোনও এলাকায় বাড়ির উপর দিয়েও রয়েছে বিদ্যুৎ পরিবাহী তার। ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। বৃষ্টির সময়ে সেই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। শহরের ত্রিফলা বাতিস্তম্ভগুলিতেও কোথাও কোথাও তার বেরিয়ে থাকার অভিযোগ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের তার মাটির নীচে চলে গেলে একসঙ্গে একাধিক সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করছে দপ্তর। কমবে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। কমবে তার ছিঁড়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনাও। পাশাপাশি শহরের দৃশ্যদূষণও অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন শহরবাসী। অনুপ সরকারের কথায়, ‘খুবই ভালো উদ্যোগ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শহরের নিরাপত্তা বাড়বে। একই সঙ্গে শহরের চেহারাও বদলে যাবে।’
প্রকল্প সংক্রান্ত বিষয়ে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা বিদ্যুৎ দপ্তরের রিজিওনাল ম্যানেজার সৌভিক সরকার বলেন, ‘জেলার তরফে একটি ডিপিআর তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।’ বালুরঘাটের বিধায়ক বিদ্যুৎকুমার রায় বলেন, ‘শহরের বিভিন্ন জায়গায় খোলা তার রয়েছে। ওই তারগুলিতে ঝুঁকি রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমি আগেই জেলার বিদ্যুৎ দপ্তরের সঙ্গে বৈঠক করেছিলাম। এবার মাটির নীচ দিয়ে বৈদ্যুতিক তার নিয়ে যাওয়ার প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে। বালুরঘাটবাসীর জন্য মুখ্যমন্ত্রীর আরও একটি উপহার।’

