সুবীর মহন্ত, বালুরঘাট: মুখ্যমন্ত্রী আসবেন। তাই শহরের (Balurghat) সামনের রাস্তা ঝাঁ চকচকে। রাস্তার ধারে কোথাও ময়লা নেই, পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যস্ত পুরসভার কর্মীরা। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি শহর ছাড়তে না ছাড়তেই যেন বদলে গেল সেই ছবি। শহরের মূল রাস্তা থেকে একটু ভেতরে ঢুকলেই এখন চোখে পড়ছে ময়লার স্তূপ। কোথাও রাস্তার ধারে, কোথাও স্কুল-কলেজের সামনে, আবার কোথাও পাড়ার গলির মুখে পড়ে রয়েছে দিনের পর দিন জমে থাকা আবর্জনা। মুখ্যমন্ত্রীর (CM Suvendu Adhikari) সফর ঘিরে ‘সাজানো’ শহরের পেছনের এই ছবিটাই এখন প্রশ্ন তুলছে বালুরঘাট পুরসভার ভূমিকা নিয়ে।
শহরের পদ্মপুকুরের বাসিন্দা রিপন ভৌমিকের কথায়, ‘রাস্তায় চলা যাচ্ছে না। দৃশ্য দূষণ, পরিবেশ দূষণ সব হচ্ছে। পুরসভা কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না?’
অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর সফরের আগেই শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে নিয়মিত আবর্জনা সংগ্রহের গাড়ি পাঠানো বন্ধ হয়ে যায়। পুরসভার কর্মীদের বড় অংশকে মুখ্যমন্ত্রীর সফরের রুট এবং আশপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখার কাজে ব্যস্ত রাখা হয়েছিল। ফলে শহরের ‘অন্দরমহলে’ বহু এলাকায় আবর্জনা তোলার কাজ থমকে যায়। এরপর পরিস্থিতি আরও জটিল হয় জন্মাষ্টমী এবং শনিবার-রবিবারের ছুটিতে। কয়েকদিন ধরে আবর্জনা না সাফ হওয়ায় জমে থাকা ময়লা পচতে শুরু করেছে। কোথাও আবার রাস্তার পাশে আবর্জনার স্তূপ এতটাই বড় হয়েছে যে পথচারীদের নাকে রুমাল চেপে চলতে হচ্ছে। শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মহন্তপাড়া থেকে শুরু করে একাধিক এলাকায় একই ছবি।
সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠছে স্কুল-কলেজ সংলগ্ন এলাকা নিয়ে। গার্লস কলেজ এবং আরসিডি স্কুলের পাশেই জমে রয়েছে প্রচুর আবর্জনা। পড়ুয়া, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াতের পথের পাশে এমন নোংরা পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ড থেকেও আবর্জনা না ওঠার অভিযোগ এসেছে।
পুরসভার চেয়ারম্যান সুরজিৎ সাহাও সমস্যার কথা কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর সফরকে সামনে রেখে শহর পরিষ্কার রাখার কাজে পুরসভাকে বাড়তি গুরুত্ব দিতে হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর সফর নিয়ে আমরা শহরের পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম। সত্যি কথা, শহরের ভেতরের এলাকাগুলি থেকে সেই সময় আবর্জনা তোলা হয়নি। তার পরে কয়েকদিন ছুটি থাকায় সমস্যা আরও বেড়েছে।’ তবে তাঁর আশ্বাস, সোমবার থেকে আবর্জনা তোলার কাজ শুরু হয়েছে। আগামী দু’দিনের মধ্যে শহর পরিষ্কার করে ফেলা হবে।
কিন্তু পুরসভার এই আশ্বাসে ক্ষোভ পুরোপুরি কাটছে না। বর্ষীয়ান বাসিন্দা স্বপন মজুমদারের কথায়, ‘শহরকে শুধু অতিথির চোখে সুন্দর দেখালেই হবে না। প্রতিদিন যাঁরা এই শহরে থাকেন, তাঁদেরও পরিচ্ছন্ন পরিবেশে বাঁচার অধিকার রয়েছে।’ তাঁর প্রশ্ন, ‘মুখ্যমন্ত্রী আসবেন বলেই যদি শহর পরিষ্কার করা যায়, তাহলে মুখ্যমন্ত্রী চলে যাওয়ার পর শহর পরিষ্কার থাকবে না কেন?’
এখন সকলের নজর পুরসভার প্রতিশ্রুিতর দিকে। সত্যিই কি সরবে জমে থাকা আবর্জনা, নাকি মুখ্যমন্ত্রীর সফরের মতোই ফের কোনও বিশেষ উপলক্ষ্যের অপেক্ষায় থাকবে শহরের সাফাই ব্যবস্থা, সেদিকেই তাকিয়ে বালুরঘাটবাসী।

