উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: অন্ধ্রপ্রদেশের গোদাবরী (Godavari Tragedy) নদীতে সপরিবারে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড়। ইঞ্জিনিয়ারিং (Andhra Engineer) ও তাঁর পরিবারের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এক রাইফেল শুটিং কোচকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভিন রাজ্যে দীর্ঘ তল্লাশি চালিয়ে অভিযুক্তকে পাকড়াও করা হয়েছে।
গত ১৬ ও ১৭ অগাস্টের মধ্যবর্তী রাতে রাজমহেন্দ্রবরমের রোড-কাম-রেল ব্রিজ থেকে গোদাবরী নদীতে ঝাঁপ দেন থিলাপুরী নুকারাজু, তাঁর স্ত্রী মীনা, কন্যা সৌজন্য এবং ১০ বছরের নাতি। স্থানীয় মৎস্যজীবীদের তৎপরতায় শিশুটি বেঁচে গেলেও নুকারাজু এবং দুই মহিলার মৃত্যু হয়। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ নুকারাজুর লেখা একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করে, যেখানে শেখ সাদিক খান নামক এক রাইফেল শুটিং কোচের নাম উঠে আসে। জোর করে ধর্মান্তকরণ, ব্ল্যাকমেলিংয়ের অভিযোগ এনে ওই কোচের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়। এরপর উত্তরপ্রদেশের মিরাট থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
কাকিনাড়ার জেলা পুলিশ সুপার বিন্দু মাধব জানিয়েছেন, অভিযুক্ত সাদিককে ধরতে ৫টি রাজ্য জুড়ে দীর্ঘ তল্লাশি চালানো হয়েছে। ডিজিটাল লেনদেন ও মোবাইল ফোন ব্যবহার এড়িয়ে চলা সত্ত্বেও একাধিক পুলিশের দল তাঁকে ট্র্যাক করে। ট্রানজিট ওয়ারেন্টে তাকে অন্ধ্রপ্রদেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তের সঙ্গে মৃত পরিবারটির বিগত দুবছর ধরে পরিচয় ছিল। নাতির স্কুলের রাইফেল শুটিং কোচ হিসেবে কাজ করতেন সাদিক। ঠিক কী কারণে এই চরম পথ বেছে নিতে বাধ্য হলেন তাঁরা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এদিকে, এই ঘটনার নেপথ্যে বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে সিবিআই বা এনআইএ (NIA) তদন্তের দাবি জানিয়েছেন প্রাক্তন সাংসদ বিজয়সাই রেড্ডি। বর্তমানে অভিযুক্তকে হেপাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে পুলিশ।

