কোচবিহার: পুরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে রবীন্দ্রনাথ ঘোষ সরতেই কোচবিহারের রিজিওন্যাল ক্যানসার সেন্টারের জমিজট সংক্রান্ত সমস্যা মিটল। সেন্টারটি অধিগ্রহণ করে সেখানে উন্নতমানের পরিষেবা দেওয়ার কথা ছিল একটি বেসরকারি সংস্থার। তবে জমিজট সমস্যার কথা জানিয়ে সদ্য প্রাক্তন চেয়ারম্যান সেই অনুমতি দেননি। চেয়ারম্যান বদলের পর বৃহস্পতিবার প্রথম বোর্ড মিটিংয়ে বেসরকারি সংস্থাকে তাদের কাজের জন্য ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেখানে ৩০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ক্যানসারের চিকিৎসার পরিকাঠামো তৈরি করা হবে। নয়া চেয়ারম্যান দিলীপ সাহা বলেন, ‘ক্যানসারের চিকিৎসার পরিকাঠামো ভালো হলে সকলেরই উপকার হবে। সেজন্য বোর্ড মিটিংয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, ওই সংস্থাকে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট দেওয়া হবে।’
কোচবিহারের বিনপট্টি এলাকার ক্যানসার সেন্টারটি দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল অবস্থায় রয়েছে। কোচবিহার রিজিওনাল ক্যানসার সেন্টার ট্রাস্ট সেটি পরিচালনা করে। প্রতি বছর ২৪ লক্ষ টাকা করে সরকারি বরাদ্দ দেওয়ার কথা থাকলেও চলতি আর্থিক বছরে কোনও টাকা দেওয়া হয়নি। গত আর্থিক বছরে ১২ লক্ষ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। বর্তমানে সেখানে ক্যানসারের প্রাথমিক কিছু চিকিৎসা হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। এই পরিস্থিতিতে ২০২২ সালে টাটা, মুকেশ আম্বানি ও আমেরিকার মেয়ো ক্লিনিকের অংশীদারিত্বের সংস্থা ‘কারকিনোস’ এগিয়ে আসে। তারা ক্যানসার সেন্টারকে অধিগ্রহণ করে পরিষেবা দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। ক্যানসারের উন্নত পরিষেবা দেওয়ার কথা বলে তারা। সেই সময় প্রাথমিক পর্যায়ে ৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করার কাজও এগোয়। দফায় দফায় দুই পক্ষের বৈঠক হয়েছিল। এমনকি ২০২২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মহালয়ার দিন ওই সংস্থার সঙ্গে ক্যানসার সেন্টার ট্রাস্টের চুক্তির কথা ছিল।
কিন্তু এমন সময়ই বেঁকে বসেন রবীন্দ্রনাথ। তিনি জানান, সেন্টারটি পুরসভার জায়গায় রয়েছে। পুরসভার অনুমতি ছাড়া সেটি বেসরকারি সংস্থাকে অধিগ্রহণ দেওয়া সম্ভব নয়। পুরসভাও সেই অনুমতি দিতে অস্বীকার করে। রবীন্দ্রনাথের যুক্তি ছিল, ‘পুরসভার জায়গা বেসরকারি সংস্থাকে অধিগ্রহণ দেওয়া নিয়ম বিরুদ্ধ।’ যদিও সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, উদয়ন গুহর সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের দ্বন্দ্বের জেরেই তিনি সেই অনুমতি দেননি। ক্যানসার সেন্টার পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ট্রাস্টের সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন উদয়ন। মূলত তাঁর উদ্যোগেই সেই সময় অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। জেলার রাজনীতিতে রবি-উদয়নের বিভাজনের কথা কারও অজানা নয়। ফলে ২০২২ সাল থেকে অধিগ্রহণ পর্ব আটকে যায়।
সম্প্রতি কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যানের পদে বদল হতেই সেই কাজ এগোচ্ছে। উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী তথা ট্রাস্টের সম্পাদক উদয়ন বলেন, ‘এতদিন পুরসভার এনওসি’র জন্য কাজ আটকে ছিল। ওই সংস্থা এখানে ৩০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে।’ বেসরকারি ওই সংস্থার আধিকারিক জাভেদ আখতার বলেন, ‘মন্ত্রী উদয়ন গুহর সঙ্গে কথা হয়েছে। শুনেছি পুরসভা এনওসি দেবে। আমাদের উদ্দেশ্য কম খরচে ক্যানসারের চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া।’
বিনপট্টি এলাকায় ১৯৮৯ সালে তৎকালীন মন্ত্রী কমল গুহর উদ্যোগে ক্যানসার সেন্টার গড়ে ওঠে। বর্তমানে সেখানে ২২টি বেড রয়েছে। কমবেশি প্রতিদিন ১৫-২০ জন রোগী ক্যানসারের চিকিৎসা করান। কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন সহ আনুষঙ্গিক চিকিৎসা করানো হয়। একজন চিকিৎসক, নয়জন নার্স সহ প্রায় ৩৫ জন কর্মী রয়েছেন। দীর্ঘদিন ঠান্ডাঘরে থাকার পর ক্যানসারের উন্নত পরিষেবা শেষপর্যন্ত কবে থেকে শুরু হবে এখন সেদিকেই তাকিয়ে সাধারণ মানুষ।
