Uploaded By: Mistushree Guha
দিনহাটা: বিদায়ি মন্ত্রী উদয়ন গুহর কাছে দিনহাটা সিট প্রেস্টিজ ফাইট হলেও তৃণমূল কাউন্সিলারদের কাছে যেন অগ্নিপরীক্ষা। ২০২৭ সালে দিনহাটায় পুরভোট। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ওয়ার্ড থেকে লিড দিতে পারলে, তবেই পুরভোটের টিকিট জুটতে পারে কাউন্সিলারদের। তাই ফলাফল নিয়ে প্রার্থীদের পাশাপাশি উদ্বিগ্ন পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলাররাও। মুখে কিছু না বললেও তাঁদের শরীরী ভাষা সে কথাই বলছে। শহরের সাইলেন্ট ভোটারই তাঁদের ভাবাচ্ছে। তাই আপাতত প্রার্থীদের মতো ৪ মে ফলাফলের মুখ চেয়ে রয়েছেন দিনহাটা পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলাররা।
এই চিন্তার কারণ যে মিছে মিছে নয়, তা বলাই বাহুল্য। গত কয়েকটি নির্বাচনে দিনহাটা শহরে তৃণমূল ভোটের নিরিখে পিছিয়ে ছিল। আসন জয়ের ক্ষেত্রে শহরের ভোট ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। তাই পুর এলাকায় ভালো ফলাফল করা তৃণমূলের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। সেজন্য ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে খুলি বৈঠক, একাধিক কমিটি গড়া, এবার সবই করেছে তৃণমূল। কিন্তু ভোট মিটে গেলেও পুরবাসীর মন বুঝে উঠতে পারছেন না নেতারা। ভোটের পর পুরবাসীর নিঃস্তব্ধতা শাসক কাউন্সিলারদের চিন্তা বাড়িয়েছে।
২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে দিনহাটা পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ড বাদে সব ওয়ার্ডেই বিজেপির তুলনায় তৃণমূল পিছিয়ে ছিল। পরে ২০২১ সালের উপনির্বাচনে ১৬ এবং ৮ ছাড়া কোনও ওয়ার্ডে লিড পাননি উদয়ন গুহ। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে পুর এলাকায় প্রায় ২৪৫০ ভোটে লিড পায় বিজেপি। যদিও একুশের নিরিখে সেই ব্যবধান কমিয়ে আনতে সক্ষম হয় তৃণমূল। কিন্তু সেসময়ও ৮ ও ১৬ ছাড়া কোনও ওয়ার্ডেই লিড নিতে ব্যর্থ হয় তৃণমূল। এবার বিধানসভা নির্বাচনে জিততে হলে গ্রামের পাশাপাশি শহরবাসীর সমর্থনও জরুরি। দলকে লিড দিতে না পারলে পুরভোটের টিকিট পাওয়ায় যে কোপ পড়তে পারে, তা বিলক্ষণ জানেন কাউন্সিলাররা। তাই ভোট শেষে জয়ের অঙ্ক মেলাতে ব্যস্ত তাঁরা।
সেই প্রসঙ্গ টেনেই ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার পার্থনাথ সরকার বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডে ৯৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। আশাবাদী, আমরাই লিড পাব।’ ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার বাবলু সাহা বলেন, ‘বিগত দিনেও আমার ওয়ার্ড লিড দিয়েছে। এবারও লিড দেবে। পাশাপাশি সেই ব্যবধানও বাড়বে।’
তবে সকলের মধ্যেই যে এই আত্মবিশ্বাসের সুর ছিল, এমনটা নয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক তৃণমূল কাউন্সিলারের গলাতেই শোনা গিয়েছে শহর এলাকায় সাইলেন্ট ভোটারদের নিয়ে আশঙ্কার সুর। তাঁদের কথায়, এবারও পুরসভায় লিড নাও পেতে পারে দল।
তবে আশঙ্কার মাঝেও দলের কর্মীদের জন্য আশার কথা শোনাচ্ছেন দিনহাটা শহর ব্লক সভাপতি বিশু ধর। তিনি বলেন, ভোটের পর হিসেব করে দেখেছি, গত নির্বাচনের লোকসান কাটিয়ে তিন থেকে চার হাজার ভোটে পুরসভা এলাকায় লিড পাব।
যদিও বিজেপি প্রার্থী অজয় রায়ের কথায়, দিনহাটা পুর এলাকার বাসিন্দারা বরাবরই বিজেপিকে ঢেলে আশীর্বাদ করেছেন। এবারও ব্যতিক্রম হবে না। একুশের বিধানসভা নির্বাচন, পরে উপনির্বাচন এবং লোকসভা নির্বাচনে দুটি ওয়ার্ডে লিড পায় তৃণমূল এবার ওয়ার্ড থেকে লিড দিতে না পারলে ২০২৭ সালের পুরভোটের টিকিট নাও পেতে পারেন তৃণমূল কাউন্সিলাররা শহরের সাইলেন্ট ভোটিংয়ে তাঁরা আশঙ্কায়।
