নাগরাকাটা: উত্তরবঙ্গের ক্ষুদ্র চা চাষিদের জন্য আলাদা উন্নয়ন বোর্ড চাইছে কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান স্মল টি গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (সিস্টা)। ক্ষুদ্র চা চাষিদের ওই সর্বভারতীয় সংগঠনটির পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গ ক্ষুদ্র চা চাষি উন্নয়ন বোর্ড গঠনের প্রস্তাব দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (CM Suvendu Adhikari) কাছে সোমবার চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে ওই বিষয়টি সহ মোট তিনটি দাবির কথা তুলে ধরা হয়েছে। সংগঠনের সভাপতি ও জলপাইগুড়ি জেলা ক্ষুদ্র চা চাষি সমিতির সম্পাদক বিজয়গোপাল চক্রবর্তী বলেন, ‘নতুন সরকারের কাছে আমাদের বহু প্রত্যাশা রয়েছে। বিজেপির নির্বাচনি সংকল্প পত্রেও উত্তরবঙ্গের ক্ষুদ্র চা (Tea) চাষিদের উন্নয়নে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছিল। আসন্ন বাজেটেই যাতে সরকার উন্নয়ন বোর্ডের বিষয়টি ঘোষণা করে এমনটাই ক্ষুদ্র চা চাষিদের আর্জি। আমরা অত্যন্ত আশাবাদী।’
সিস্টার দাবি, সেই উন্নয়ন বোর্ডে টি বোর্ড, শিল্প বাণিজ্য দপ্তর ও স্থানীয় জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা থাকবেন। সেইসঙ্গে ক্ষুদ্র চা চাষিদের প্রতিনিধি, চা গবেষক ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের রাখার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। এই উন্নয়ন বোর্ডকে ক্ষমতা ও দায়িত্ব দেওয়া হলে ক্ষুদ্র চা চাষিদের সমস্যাগুলি দ্রুত সমাধান এবং সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। সংগঠনের আরও দাবি, ক্ষুদ্র চা চাষিদের প্রথাগত কৃষকের মর্যাদা দেওয়া হোক। তাহলে কেন্দ্র সরকারের প্রধানমন্ত্রী কৃষি সিঞ্চাই যোজনা, প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা, কিষান ক্রেডিট কার্ড, সয়েল হেলথ কার্ডের মতো প্রকল্পগুলির সুযোগসুবিধা তাঁরা পাবেন।
বড় চা বাগানের মহিলা শ্রমিক ও শিশুদের উন্নয়নে কেন্দ্র সরকার প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক প্রোৎসাহন যোজনার মাধ্যমে এ রাজ্যের জন্য যে ৪২৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করে রেখেছে তা রাজ্য সরকারের মাধ্যমে খরচের দাবির কথাও এদিন মুখ্যমন্ত্রীকে পাঠানো চিঠিতে জানানো হয়। পাশাপাশি ওই প্রকল্পটির সুবিধার আওতায় ক্ষুদ্র চা বাগানের শ্রমিকদেরও আনার দাবির কথা তুলে ধরা হয়েছে। জলপাইগুড়ি জেলা ক্ষুদ্র চা চাষি সমিতির সভাপতি রজত রায়কার্জি বলেন, ‘বর্তমানে উত্তরবঙ্গের মোট চা উৎপাদনের শতকরা ৭০ শতাংশই আসছে ক্ষুদ্র চা চাষিদের বাগানের কাঁচা পাতা থেকে। উত্তর দিনাজপুর, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহারের মতো জেলাগুলি মিলিয়ে অন্তত ৫০ হাজার ক্ষুদ্র চা চাষি রয়েছেন। ওই সমস্ত জেলার গ্রামীণ অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ক্ষুদ্র চা চাষের উন্নয়ন আখেরে গোটা সমাজের উন্নয়ন। নতুন রাজ্য সরকার সমস্ত কিছু যে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে তা নিয়ে সংশয় নেই।’
