সামসী: আবাস যোজনায় (Awas Yojana) ঘর পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। মালদার (Malda) চাঁচল (Chanchal)-২ ব্লকের জালালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘটনা। অভিযুক্ত জাহাঙ্গির আলম ওই এলাকার তৃণমূল গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য রেবিনা বিবির স্বামী। টাকা নিয়েও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ঘর না মেলায় অবশেষে চাঁচল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন ক্ষুব্ধ উপভোক্তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জালালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত এলাকার একাধিক দুঃস্থ পরিবারের কাছ থেকে সরকারি আবাস প্রকল্পে ঘর পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা করে আদায় করা হয়। অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির আলম তালিকাভুক্ত হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই টাকা তুলেছিলেন বলে অভিযোগ। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সরকারি ঘর পাওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। উলটে টাকা ফেরত চাইতে গেলে ওই নেতা বিভিন্ন অজুহাত দিচ্ছেন বলে অভিযোগ আবু সামা, শাহজাহান আলিদের।
উপভোক্তা শাহজাহান আলির স্পষ্ট দাবি, “আমরা গরিব মানুষ, কষ্টের টাকা দিয়েছিলাম ঘর পাবো বলে। কিন্তু এখন ঘরও নেই, টাকাও নেই। অবিলম্বে টাকা ফেরত না পেলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।”
এই ঘটনাকে ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছে স্থানীয় রাজনীতি। মালদা উত্তর বিজেপির সহ সভাপতি রতন দাস বলেন, “যাঁদের কাছ থেকে তৃণমূল (TMC) নেতারা টাকা নিয়েছে, তাঁরা প্রত্যেকেই থানায় অভিযোগ দায়ের করুন। আমরা তাঁদের পাশে আছি। গরিব মানুষের টাকা ফেরত দিতেই হবে।” অন্যদিকে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত জাহাঙ্গির আলম। তিনি একে ‘রাজনৈতিক চক্রান্ত’ বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “আমাকে ফাঁসানোর জন্য পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে।” শাসক দলের অন্দরে যখন এই দুর্নীতি নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে, তখন তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সি পুরো ঘটনার খোঁজখবর নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
