Bankura | ৩৩ বছর পর ঘরে ফেরা! রাজনৈতিক সন্ত্রাসের বলি হয়ে গ্রামছাড়া বিজেপি কর্মীকে বাড়ি ফেরালেন বিধায়ক

Bankura | ৩৩ বছর পর ঘরে ফেরা! রাজনৈতিক সন্ত্রাসের বলি হয়ে গ্রামছাড়া বিজেপি কর্মীকে বাড়ি ফেরালেন বিধায়ক

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: দীর্ঘ ৩৩ বছরের নির্বাসন শেষে অবশেষে নিজের পৈতৃক ভিটেতে ফিরলেন বাঁকুড়ার (Bankura) ইন্দাস ব্লকের কুশমুড়ি গ্রামের বাসিন্দা বিমলচন্দ্র বোড়া (Bimal Chandra Bora)। বাম জমানায় বিজেপির প্রার্থী হওয়ার ‘অপরাধে’ ঘরছাড়া হয়েছিলেন তিনি, এরপর তৃণমূল জমানাতেও সন্ত্রাসের ভয়ে গ্রামে ফেরার সাহস পাননি এই বিজেপি কর্মী। অবশেষে রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর ইন্দাসের বিধায়ক নির্মলকুমার ধাড়ার উদ্যোগে সোমবার সন্ধ্যায় তিনি বাড়ি ফিরলেন।

১৯৯৩ সালে যখন রাজ্যে বামেদের রমরমা, সেই সময় স্রোতের বিপরীতে গিয়ে গ্রাম পঞ্চায়েত ভোটে বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন বিমলচন্দ্র বোড়া। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন মিটতেই তৎকালীন শাসকদলের সন্ত্রাসের শিকার হয়ে তিনি ঘরছাড়া হন। এরপর মাসের পর মাস ভবঘুরের মতো জীবন কাটিয়ে শেষপর্যন্ত হুগলির আরামবাগের গোপীনাথপুর এলাকায় থিতু হন তিনি। সেখানে বিয়ে করে সংসার শুরু করলেও রাজনৈতিক কারণে বাড়ি ফেরার সাহস সঞ্চয় করতে পারেননি। ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পরেও পরিস্থিতির বদল না হওয়ায় নিজের গ্রামে ফেরার স্বপ্ন অধরাই থেকে যায় তাঁর।

বিমলচন্দ্রের এই দীর্ঘ সংগ্রামের কথা জানতে পেরে ইন্দাসের বিজেপি বিধায়ক নির্মলকুমার ধাড়া তাঁকে ঘরে ফেরানোর উদ্যোগ নেন। সোমবার সন্ধ্যায় আরামবাগ থেকে বিমলচন্দ্রকে নিজের গ্রাম কুশমুড়িতে নিয়ে আসেন বিধায়ক। তাঁকে স্বাগত জানাতে বিধায়ক নিজেও উপস্থিত ছিলেন।

বিমলচন্দ্রকে দলের ‘সম্পদ’ আখ্যা দিয়ে বিধায়ক নির্মলকুমারধাড়া (Nirmal Kumar Dhara) বলেন, “যখন আমাদের কিচ্ছু ছিল না, তখন এঁরাই ছিলেন। বাম আমলে অত্যাচারিত হওয়ার পর তৃণমূল সরকারের জমানাতেও সন্ত্রাসের শিকার হয়ে প্রায় ৩৩ বছর তিনি বাড়ি ফিরতে পারেননি।” বিধায়কের দাবি, বর্তমানে রাজ্যে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠার পর আতঙ্কের পরিবেশ দূর হয়েছে, যা বিমলচন্দ্রকে গ্রামে ফেরার সাহস যুগিয়েছে।

দীর্ঘ তিন দশক পর পৈতৃক ভিটেয় দাঁড়িয়ে বিমলচন্দ্র বলেন, “নিজের মাটি, নিজের গ্রাম ছেড়ে কে আর বাইরে থাকতে চায়? কিন্তু পরিস্থিতি বাধ্য করেছিল। প্রথমে বামেরা, তারপর তৃণমূল—সন্ত্রাসের জন্য গ্রামে ফেরার সাহস দেখাতে পারিনি। আজ নিজেদের মাটির বাড়িটা দেখে ভীষণ আনন্দ হচ্ছে।” বাড়ি ফেরার পর তাঁর গলায় আবেগের ছাপ ছিল স্পষ্ট।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *