প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, পূর্ব বর্ধমান: পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক (Jamalpur MLA) অরুণ হালদারের (Arun Haldar) একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক দানা বেঁধেছে। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সাফল্য নিয়ে বুধবার জামালপুরের ধনুক গ্রামে বিজেপির একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় বক্তব্য রাখার সময় বিধায়ক অরুণ হালদার ২০২৬ বিধানসভা ভোটে তাঁর জয়ের নেপথ্য কাহিনী তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের আসনে বিজেপি জিতলেও, জামালপুর বিজেপি জিতবে কি না তা নিয়ে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু আমি বলতাম, এক ভোট হলেও আমি জিতব। কারণ, স্বয়ং ‘ভগবান’ আমাকে এখানে (জামালপুরে) পাঠিয়েছে এঁদের (জামালপুরবাসীকে) উদ্ধার করার জন্যে। পৃথিবীর কোনও দানবীয় শক্তি আমাকে হারাতে পারবে না।’ সভায় রাখা এই বক্তব্যের ভিডিও অরুণ হালদার তার ফেসবুক একাউন্ট থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সহ রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতা সুনীল বনসালকে ট্যাগ করে পোস্টও করেছেন।
এদিকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সাফল্য-সভায় এমন বক্তব্য পেশ করে দলের অন্তরেই সমালোচনায় মুখে পড়েন অরুণ হালদার। বিরোধীরাও বিজেপি বিধায়কের এহেন মন্তব্য নিয়ে কটাক্ষ করা শুরু করে দেয়। তারা অরুণ হালদারকে ‘অপরিপক্ক’ রাজনীতিক বলেও অভিহিত করেন। যদিও বিধায়কের দাবি, “আমার দলের লোকেরাও ২০২৬ বিধানসভা ভোটে জামালপুরে জয় নিয়ে সংশয়ে ছিলেন। বালি মাফিয়া সহ দানবীয় শক্তির বিরুদ্ধে আমার লড়াই ছিল। স্বয়ং ঈশ্বরের আশীর্বাদ ছাড়া জামালপুরে আমার জয় আসত না। সেই অনুভূতির কথাই আমি অন্নপূর্ণা ভান্ডার নিয়ে আয়োজিত এই সভার মঞ্চে তুলে ধরেছি।’ বিধায়ক অরুণ হালদারের সঙ্গেই উপস্থিত ছিলেন জামালপুর ১ মন্ডলের বিজেপি সভাপতি প্রধানচন্দ্র পাল। তাঁর বক্তব্য,’বিধায়ক অরুণ হালদারের বক্তব্যের মধ্যে তিনি কোন ভুল বা অপরিপক্কতার কিছু দেখছেন না। এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে প্রধানচন্দ্র পাল বলেন, ‘আমাদের কাছে এবং বিজেপি পরিবারের সবার কাছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) হলেন ভগবান। প্রধানমন্ত্রীর কথাতেই আমাদের দল অরুণ হালদারকে জামালপুর বিধানসভা আসনে ভোটে লড়ার জন্য প্রার্থী করে।’ বিধায়ক সম্ভবত প্রধানমন্ত্রীকেই ভগবান বলে উল্লেখ করেছেন বলে প্রধানচন্দ্র পাল দাবি করেছেন।
তবে প্রধানচন্দ্র পাল যাই দাবি করুন না কেন, একই মন্ডলে দলের সহ-সভাপতি সুশান্ত মণ্ডল সেই দাবি নস্যাৎ করে দিয়েছেন। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সুশান্ত মণ্ডল বলেন, ‘ভোট রাজনীতিতে ভগবানকে টেনে এনে অরুণ হালদার এখন সবার কাছে হাসির খোরাক হয়ে গিয়েছেন।’ তিনি মুখে ধর্মের কথা বললেও বাস্তবে অধর্মকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন বলে সুশান্ত মন্ডল দাবি করেছেন। আর বিজেপির মহিলা মোর্চার জামালপুর ১ মন্ডলের সভানেত্রী নেত্রী দেবিকা দেবনাথ কটাক্ষ করে বলেন, ‘ভগবানের দূত এখন জামালপুরবাসীর কাছে ‘যমদূত’ হয়ে গিয়েছেন। সরকারি ঘর দেওয়ার নাম করে, চাকরি দেওয়ার নাম করে যাঁরা টাকা তুলছে তারাই এখন তাঁর অনুগত পূজারী হয়েছে।’
অরুণ হালদারের বক্তব্য নিয়ে বামেরাও তীব্র কটাক্ষ করেছে। জামালপুরে প্রাক্তন বাম বিধায়ক সমর হাজরা বলেন,’বিজেপি বিধায়ক অরুণ হালদার যদি ভগবানের দূতই হবেন তাহলে এখনও কেন জামালপুরের গরীব মানুষরা ঘর পাচ্ছেন না? উন্নয়ন কাজ কেন থমকে আছে?’ অন্যদিকে ২০২৬ বিধানসভা ভোটে জামালপুর বিধানসভা আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হওয়া তৃণমূল প্রার্থী ভূতনাথ মালিক বলেন, ‘ভোটর প্রার্থী নির্বাচন স্বয়ং ভগবান এখন হস্তক্ষেপ করছেন তা জানতাম না’। একইভাবে জামালপুরের কংগ্রেস নেতা বুদ্ধদেব ঘোষের কটাক্ষ,’জামালপুরের চারদিকে হয়ে চলা এত অন্যায় ভগবানের দূত দেখতে পাচ্ছেন না, এটাই সবথেকে বড় আশ্চর্যের।

