প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিধ্বস্ত নেপাল। জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে যাওয়ার কলকাতার ৩২ জন পর্যটকের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। বুধবার সকালে তাঁদের নেপাল-তিব্বত সীমান্ত পেরনোর কথা ছিল বলেই খবর। এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগে পরিবারের লোকজন। বিপর্যস্তদের জন্য হেল্পলাইন চালু করল নবান্ন।
এই বিষয়ে আরও খবর
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে নেপালে হড়পা বানে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলার বাসিন্দাদের সহযোগিতায় হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। নম্বরগুলি হল: (০৩৩) ২৪৭৯-৩৩১১ এবং ৯১৪৭৮৯০১৮১। বন্যাবিধ্বস্ত ব্যক্তি কিংবা তাঁদের পরিজনদের জন্য এই নম্বর দু’টি চালু করা হয়েছে।
বলে রাখা ভালো, বুধবার সকাল থেকেই আচমকা নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে। এরপরই চিন সীমান্তবর্তী ওই জেলায় হড়পা বান নামে। আকস্মিক বন্যার জেরে রীতিমতো ধ্বংসযজ্ঞ চলে রসুয়া জেলায়। চিনের সংবাদ সংস্থা ‘সিনহুয়া’র খবর অনুযায়ী, হড়পা বানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তিব্বতের গাইরং প্রদেশ-সহ বহু এলাকা। সেখানেও হতাহতের সংখ্যা বহু। হড়পা বানের কারণ নিয়ে নানা মত উঠে আসছে। নেপালের বন্যা পূর্বাভাস বিভাগ জানিয়েছে, রসুয়ায় ভারী বৃষ্টির জেরে এই বিপর্যয় ঘটেছে, এমন সম্ভাবনা কম। ফলে তিব্বত থেকে জল নেমে আসার বিষয়টিই প্রকট।
পাশাপাশি, হিমবাহের জলাধার ভাঙা বা ‘গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড’-এর সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নেপাল পর্যটন বোর্ডের তথ্যানুযায়ী, বন্যাদুর্গত এলাকা থেকে অন্তত ৩৮৪ জন পর্যটক নিখোঁজ। তাঁদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালি নাগরিক। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদেশিদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। অন্যদিকে, রাসুয়া জেলায় নেপাল পুলিশের অন্তত ২৬ জন আধিকারিক এখনও নিখোঁজ। পাশাপাশি, খোঁজ মিলছে না নেপালি আধাসেনার কমপক্ষে ৭ জওয়ানেরও। নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুগলিন এলাকা-সহ ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নেপাল প্রশাসন। প্রতিবেশী দেশে দুর্যোগে মৃতদের প্রতি শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফোন করে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহকে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
