উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ইরানের বন্দর আব্বাসের (Bandar Abbas) কাছে একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। এবার এর জবাবে মার্কিন বিমানঘাঁটিতে (US Base) পালটা হামলা চালাল ইরান (US-Iran Battle)। এমনটাই দাবি করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী ইসলামিক রিভলিউশনারি গার্ড কোর (IRGC)। এই ঘটনার জেরে বিশ্বজুড়ে নতুন করে জ্বালানি তেল সরবরাহের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গত তিন মাস ধরে চলা সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী। আমেরিকার দাবি, তাদের বাহিনী হরমুজ প্রণালীর কাছে মার্কিন সেনা ও বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর হুমকি হয়ে ওঠা চারটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এছাড়া, বন্দর আব্বাসের কাছে ড্রোন নিয়ন্ত্রণের একটি কেন্দ্র ধ্বংস করা হয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, এই অভিযান ছিল নিতান্তই আত্মরক্ষামূলক।
পালটা প্রতিক্রিয়ায় ইরান অভিযোগ করেছে, আমেরিকা বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, ভবিষ্যতে মার্কিন তরফ থেকে কোনও আগ্রাসন চালানো হলে এর চেয়েও ভয়াবহ ও চূড়ান্ত জবাব দেওয়া হবে। এদিকে, এই সংঘাতের আবহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী কোনও একক দেশের নিয়ন্ত্রণে থাকবে না। এমনকি ওমানের সঙ্গে ইরানের প্রস্তাবিত কোনও সমঝোতার সম্ভাবনাও ট্রাম্প দৃঢ়ভাবে খারিজ করে দিয়েছেন।
সংঘাতের উত্তাপে বিশ্ববাজারে অশোধিত তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আন্তর্জাতিক মহলে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি থেকে সরে আসতে অস্বীকার করায় আলোচনা কার্যত স্তব্ধ। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটির ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক নীচে নেমে এসেছে। ইরান ও আমেরিকার এই রেষারেষি বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।
