উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশে ইবোলা ভাইরাসের নতুন প্রাদুর্ভাব (Ebola Outbreak) বিশ্বজুড়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি করেছে। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাওয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ইতিমধ্যেই এটিকে আন্তর্জাতিক স্তরে উদ্বেগজনক জনস্বাস্থ্য সঙ্কট হিসেবে ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে আফ্রিকার স্বাস্থ্য দপ্তরও একে মহাদেশীয় নিরাপত্তার জন্য জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা বলে গণ্য করছে এবং মহাদেশজুড়ে হাই অ্যালার্ট জারি করেছে।
মূলত কঙ্গো এবং উগান্ডায় ইবোলার বিপজ্জনক ‘বুন্দিবুগিও’ স্ট্রেনটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। যেহেতু সীমান্ত এলাকাগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল, তাই প্রতিবেশী দেশ দক্ষিণ সুদানকেও এই মুহূর্তে চরম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরুরি কমিটির নির্দেশিকা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সীমান্ত এবং বন্দরগুলোতে নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আক্রান্ত দেশগুলো থেকে আসা কোনো যাত্রীর মধ্যে জ্বর বা অজানা অসুস্থতার লক্ষণ থাকলে, তাঁকে অবিলম্বে আইসোলেশনে রেখে পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইবোলা আসলে একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক ভাইরাসজনিত হেমোরেজিক ফিভার। বর্তমানে যে ‘বুন্দিবুগিও’ (Bundibugyo) স্ট্রেনটি ছড়াচ্ছে, সেটির মৃত্যুহার অত্যন্ত বেশি। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, এই নির্দিষ্ট স্ট্রেনটির মোকাবিলা করার জন্য এখনো পর্যন্ত কোনো স্বীকৃত টিকা বা সুনির্দিষ্ট ওষুধ আবিষ্কার হয়নি। লক্ষণ প্রকাশের পর রোগীর অবস্থা অত্যন্ত দ্রুত খারাপ হতে শুরু করে। ফলে এই মুহূর্তে সংক্রমণ প্রতিরোধ করাই একমাত্র প্রধান উপায়।
বিশ্বের এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে রবিবার ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক দেশবাসীর জন্য একটি জরুরি সতর্কবার্তা (Well being Advisory) জারি করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজন না থাকলে কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানে এই মুহূর্তে ভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকাই সবচেয়ে নিরাপদ। নাগরিকদের তাঁদের ভ্রমণ পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
যেসব ভারতীয় নাগরিক বর্তমানে কঙ্গো, উগান্ডা বা দক্ষিণ সুদানে (South Sudan) অবস্থান করছেন, তাঁদের স্থানীয় প্রশাসনের সমস্ত স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিজের সুরক্ষার স্বার্থে কোনো রকম খামতি না রাখার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রক (Well being Ministry India)। যেকোনো সাধারণ জ্বর বা অস্বাভাবিক কোনো উপসর্গ দেখা দিলেই বিলম্ব না করে দ্রুত স্থানীয় চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে বলা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক স্তরে আতঙ্ক ছড়ালেও ভারতের জন্য স্বস্তির খবর হলো, দেশে এখনো পর্যন্ত ইবোলা সংক্রমণের কোনো ঘটনা ধরা পড়েনি। বিশেষ করে আফ্রিকার এই নতুন ‘বুন্দিবুগিও’ স্ট্রেনটির কোনো অস্তিত্ব ভারতে নেই। তবে সরকার পুরো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তীতে যে কোনো নতুন আপডেট বা নির্দেশিকা ভারত সরকারের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হবে।
