উন্নয়ন প্রকল্প নির্মাণের গুণমান ও প্রয়োজনীয়তা খতিয়ে দেখতে বিদায়ী তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প ‘পাড়ায় সমাধান’ রাজ্যের সমস্ত পুরসভায় স্থগিত করে দিল বর্তমান রাজ্য সরকার। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন ওয়ার্ডের যে সমস্ত পাড়ায় উন্নয়নের কাজ নির্দিষ্ট করে সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়াররা ফাইল তৈরি করে টেন্ডারের পর ঠিকাদারদের দায়িত্ব দিয়েছিলেন কিন্তু তড়িঘড়ি ভোট ঘোষণা হয়ে যাওয়ায় নির্মাণ শুরু করা যায়নি সেই প্রকল্পগুলির সমস্তটাই বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।
এই বিষয়ে আরও খবর
সরেজমিনে তদন্ত করে, উন্নয়নের প্রাসঙ্গিকতা ও টেন্ডারের স্বচ্ছতা বিচার করার পরেই ঠিকাদারদের ‘পেমেন্ট’ দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর। গ্রামোন্নয়নেও অডিট চলতে থাকায় অধিকাংশ পঞ্চায়েত এলাকাতেও ‘পাড়ায় সমাধান’ প্রকল্পের কাজ ও পেমেন্টও বন্ধ রাখা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
এখানেই শেষ নয়, ভোটের আগে রাস্তা-নিকাশি- জল বা পথবাতি বসানোর মতো যে সমস্ত নতুন কাজ হয়েছে সেগুলি সরেজমিনে তদন্ত করে, উন্নয়নের প্রাসঙ্গিকতা ও টেন্ডারের স্বচ্ছতা বিচার করার পরেই ঠিকাদারদের ‘পেমেন্ট’ দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর। গ্রামোন্নয়নেও অডিট চলতে থাকায় অধিকাংশ পঞ্চায়েত এলাকাতেও ‘পাড়ায় সমাধান’ প্রকল্পের কাজ ও পেমেন্টও বন্ধ রাখা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। তবে সরকারিভাবে কোথাও পাড়ায় সমাধান-এর এই স্থগিতাদেশ নিয়ে কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি, পুরোটাই মৌখিক নির্দেশ বলে স্বীকার করেছেন পুর আধিকারিকরা।
সরেজমিনে পাড়ায় সমাধান-এর আওতায় সমস্ত প্রকল্পের কাজ তদন্ত করার জন্য ১৮ দিন সময়ও ধার্য করে দিয়েছেন নয়া পুরমন্ত্রী। পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ১০ জুনের মধ্যে ‘পাড়ায় সমাধান’ প্রকল্পে হওয়া কাজের সমস্ত তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
আগের সরকার যে টাকা বরাদ্দ করে সংশ্লিষ্ট পুরসভা ও দপ্তরকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল সেই অর্থ ফেরত নিয়ে নিয়েছে সরকার। একইসঙ্গে কলকাতা পুরসভার অ্যাকাউন্ট বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোথাও যেন কোনও ঠিকাদারের বিল জমা নেওয়া না হয়। দিন কয়েক আগে রাজ্যের সমস্ত পুরসভাতেই এই তদন্ত শুরু করার জন্য পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের প্রধান সচিব খলিল আহমেদকে শীর্ষে রেখে একটি উচ্চ-পর্যায়ের কমিটি গড়ে গিয়েছেন স্বয়ং বিভাগীয় মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। পাশাপাশি সরেজমিনে পাড়ায় সমাধান-এর আওতায় সমস্ত প্রকল্পের কাজ তদন্ত করার জন্য ১৮ দিন সময়ও ধার্য করে দিয়েছেন নয়া পুরমন্ত্রী। পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ১০ জুনের মধ্যে ‘পাড়ায় সমাধান’ প্রকল্পে হওয়া কাজের সমস্ত তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। শুক্রবার থেকে বিধানসভা ভোটের আগে বিভিন্ন পুরসভায় ‘পাড়ায় সমাধান’ প্রকল্পে যে সমস্ত উন্নয়ন প্রকল্প হয়েছিল সেগুলি নিয়ে অডিট ও সরেজমিনে তদন্ত শুরু হয়েছে। আর এর পরেই বিল পাবেন না ধরে নিয়ে প্রমাদ গুনেছেন তড়িঘড়ি ফাঁকি দিয়ে নিম্নমানের কাজ করা ঠিকাদাররা। গোটা ঘটনায় ক্ষুব্ধ ঠিকাদাররা পাড়ায় সমাধান প্রকল্পের বিল না পাওয়া পর্যন্ত অন্য কাজেও টেন্ডারে অংশ নেবেন না বলেছেন। ঠিকাদারদের একাংশ বিল না পেলে সরকারি ওয়ার্ক অর্ডার হাতে নিয়েই কোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
