বিধান ঘোষ, হিলি: বাঙালির স্বভাবেই রয়েছে রথ দেখা আর কলা বেচা। তাই দুর্গাপুজোর (Durga Puja 2026) রাতে লংড্রাইভের সঙ্গে প্যান্ডেল হপিং, আর তার সঙ্গেই জমিয়ে হুল্লোড়। সেই আবহেই অনন্য হয়ে ওঠে হিলি (Hili) সীমান্তের দুর্গাপুজো। দক্ষিণ দিনাজপুরের বিগ বাজেটের নজরকাড়া পুজোগুলির মধ্যে হিলি চেকপোস্ট সংলগ্ন বিপ্লবী সংঘের পুজো প্রতি বছরই মানুষের ভিড়ে জনপ্লাবিত হয়। চলতি বছরও দিল্লি, কলকাতা সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আধুনিক সরঞ্জাম এনে তৈরি হচ্ছে বৃহৎ কাল্পনিক মন্দির। পুজোমণ্ডপের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে থাকছে ডাকের সাজের মাতৃপ্রতিমা ও চন্দননগরের আলোকসজ্জা।
কয়েক দশক ধরে নতুন ভাবনায় পুজো করে আসছে বিপ্লবী সংঘ। কখনও সবুজায়নের বার্তা, কখনও থাইল্যান্ডের বৌদ্ধ মন্দিরের আদলে মণ্ডপসজ্জায় চমক দিয়েছে তারা। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের শূন্যরেখার গা ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই পুজো দেখতে পার্শ্ববর্তী জেলা ছাড়াও বাংলাদেশ থেকেও দর্শনার্থীরা আসেন। উপচে পড়া কালো মাথার ভিড় দেখা যায় হিলির রাস্তায়। এবছরও তার অন্যথা হবে না বলে পুজো উদ্যোক্তাদের দাবি।
মানুষের ওই আবেগকে মান্যতা দিয়ে চলতি বছরেও বিগ বাজেটের পুজোর আয়োজন করা হচ্ছে। এবার ৫৮তম বর্ষে বৃহত্তম কাল্পনিক মন্দির নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মণ্ডপ তৈরি করছে বালুরঘাটের ভাই ডেকরেটর। মাতৃপ্রতিমা নির্মাণ করছেন হিলির গোপাল পাল। দর্শনার্থীদের মনোরঞ্জনের জন্য ভারত-বাংলাদেশ চেকপোস্ট দর্শনের পাশাপাশি বসছে মেলা। জলপরি, নাগরদোলা, টয়ট্রেন, ডিস্ক সহ থাকছে নানা আকর্ষণ। পুজো উদ্বোধনের দিন থেকে প্রতিদিন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন রয়েছে।
হিলির বিপ্লবী সংঘের পুজো আয়োজন দেখতে বছরভর অপেক্ষায় থাকেন জানিয়ে গঙ্গারামপুরের বাসিন্দা পাপাই ঘোষ বলেন, ‘জেলার বিগ বাজেটের দুর্গাপুজোর মধ্যে হিলির বিপ্লবী সংঘ অন্যতম। গঙ্গারামপুর থেকে পরিবার নিয়ে যাওয়ার অর্থই দুর্গাপুজোয় লংড্রাইভ। পাশাপাশি প্যান্ডেল হপিং এবং ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ঢুঁ মারা একটা আলাদা ভাইব তৈরি করে। পুজোর আগে থেকেই বিপ্লবী সংঘের পুজোর আয়োজন নিয়ে খবর রাখি। কোনও দুর্ঘটনা না ঘটলে বিপ্লবী সংঘে পুজো দেখতে যেতেই হবে।’
হিলি বিপ্লবী সংঘের সম্পাদক প্রশান্ত সাহা বলেন, ‘দিল্লি, কলকাতা সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে আধুনিক সরঞ্জাম নিয়ে এসে পুজোমণ্ডপ তৈরি হচ্ছে। শিল্পীর কাল্পনিক দৃষ্টিভঙ্গিতে মন্দির নির্মাণ হচ্ছে। ডাকের সাজের মাতৃপ্রতিমা হচ্ছে। চন্দননগরের আলোকসজ্জা থাকছে। তার সঙ্গে মিলনমেলা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। গত বছরগুলির মতো এবছরেও মানুষ হতাশ হবে না বলে আমরা আশাবাদী।’

