দলের নেতারাই তাঁকে ভরসা করে উঠতে পারেন না। কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে প্রকাশ্যেই ক্ষোভপ্রকাশ করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সূত্রের খবর, মঙ্গলবার দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারক কমিটির বৈঠকে রাহুল বলে দেন, ‘আমি দু’বছর ধরে ভোটচুরির কথা বলে আসছি। ইভিএম নিয়ে আন্দোলন করার কথা বলে আসছি। আমার দলের নেতারাই তখন তথ্য তালাশে ব্যস্ত ছিল।’
বস্তুত দীর্ঘদিন ধরেই রাহুল গান্ধী ভোটচুরি ইস্যু নিয়ে সরব। এমনকী বিহারের ভোটে তিনি ভোটচুরিকেই মূল ইস্যু করেছিলেন। তা নিয়ে যাত্রাও করেন। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, তিনি ভোটচুরি নিয়ে যতটা মুখর দলের অন্য নেতারা ততটা নন। বিজেপিতে যেমন শীর্ষ নেতৃত্বের কথা একেবারে তৃণমূল স্তর পর্যন্ত নেতারা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেন, রাহুলের ক্ষেত্রে তেমনটা হয় না। বরং উলটোটাই হয়। ২০১৯ লোকসভা ভোটের আগে যখন তিনি রাফালে ইস্যু নিয়ে সরব হলেন, তখনও গোটা দল তাঁর পাশে থাকেনি। এবার এসব নিয়ে দলের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে সরব হন লোকসভার বিরোধী দলনেতা।
আরও পড়ুন:
সূত্রের খবর, ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে রাহুল বলে দেন, “গত দু’বছর ধরে আমি ভোটচুরির কথা বলছি। শুরুতে আমাদের নিজেদের লোকেরাই আমার সঙ্গে একমত ছিলেন না। আজ দু’বছর পর এসে দেখছি বেশিরভাগ নেতা ভোটচুরির কথা মানছেন।” রাহুল বলেন, তিনি যখন ইভিএম নিয়ে আন্দোলনের কথা বলেছিলেন, অনেকে তাতে রাজি না হয়ে সেসব নিয়ে তথ্যতালাশে ব্যস্ত ছিলেন।” সূত্রের দাবি, রাহুল গান্ধী যেভাবে ভোটচুরিতে দলের সিনিয়র নেতাদের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তাতে রীতিমতো অস্বস্তিতে পড়ে যান অনেকে।
এদিকে ওই বৈঠকে দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে আরেক সিনিয়র নেতা শশী থারুরকেও কটাক্ষ করেন। ইদানিং থারুর অনেক ক্ষেত্রেই দলের অবস্থানের বিরুদ্ধে গিয়ে উলটো কথা বলছেন। তাতে শিরোনামও তৈরি হচ্ছে। কংগ্রেস সভাপতি ভরা সভায় থারুরকে প্রশ্ন করেন, “কী আপনি আমাদের বিক্ষোভে শামিল হবেন নাকি শিরোনাম তৈরিতে ব্যস্ত থাকবেন?”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
