উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আমূল সংস্কার করতে এবং ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে বড় রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। লোকসভার পর এ বার রাজ্যসভাতেও ধ্বনি ভোটে পাশ হয়ে গেল বহুল প্রতীক্ষিত ‘পাবলিক এগজামিনেশন—প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস—অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’। বিলে প্রশ্নফাঁস এবং পরীক্ষার যে কোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে শাস্তির পরিমাণ বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সংসদের উভয় কক্ষে বিল (Anti Paper Leak Invoice) অনুমোদিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একে ‘পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারে ঐতিহাসিক মাইলফলক’ বলে অভিহিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিক দলগুলির সাংসদদের ওয়াকআউট ও প্রতিবাদের মধ্যেই রাজ্যসভায় ধ্বনি ভোটে পাস হয়ে যায় সংশোধনী বিলটি। এর আগে গত বুধবার লোকসভাতেও এটি পাশ হয়েছিল। দুই দশক ধরে চলা প্রশ্নফাঁসের সমস্যা থেকে ছাত্রসমাজকে মুক্তি দিতে প্রযুক্তি এবং কঠোর আইনের সর্বোচ্চ ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছে সরকার।
নতুন সংশোধনী বিল অনুযায়ী অপরাধের মাত্রা ও ধরন দেখে কড়া শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে:
- ব্যক্তিগত অপরাধ: প্রশ্নফাঁস (Paper Leak) বা অসদুপায়ের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৫ বছর থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের জেল এবং ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানার নির্দেশ।
- সংগঠিত অপরাধ ও চক্র: পরীক্ষা সংক্রান্ত কোনো সংগঠিত অপরাধ বা সিন্ডিকেটের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৭ বছরের জেল এবং ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত ভারী জরিমানার প্রস্তাব।
বিল পাসের পর সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিওবার্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, দেশের কোটি কোটি শিক্ষার্থীর জীবন নিয়ে খেলা করা ‘পেপার গ্যাং’ বা চক্রীদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। টাস্ক ফোর্স গঠন থেকে শুরু করে ফাস্ট ট্র্যাক আদালত এবং রাজ্যগুলির সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে এই জালিয়াতি নির্মূল করতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানান তিনি। রাষ্ট্রপতি সই করলেই এই বিলটি আইনে পরিণত হবে।

