বক্সিরহাট: পাচারের ছক বানচাল। অভিযান চালিয়ে অসম-বাংলা সীমান্তে ২৬ টন বার্মা সুপারি (Burma betel nut) বাজেয়াপ্ত করল বক্সিরহাট থানার পুলিশ। উদ্ধার হওয়া বার্মা সুপারির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা। ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২ জনকে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজস্ব ফাঁকি দিতে বাঁশের আড়ালে সুপারি পাচারের ছক কষেছিল অসাধু কারবারিরা। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। বুধবার সন্ধ্যায় অসম সীমান্তবর্তী বক্সিরহাট থানার (Baxirhat) অন্তর্গত জোড়াই মোড় এলাকায় নাকা চেকিং চালানো হয়। সেই সময় এক পণ্যবাহী লরিকে দাঁড় করান কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা। জিজ্ঞাসাবাদ চালাতে লরিচালক জানায়, ধূপকাঠি তৈরির জন্য বাঁশ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সন্দেহ হওয়ায় লরিতে তল্লাশি চালাতেই চক্ষু চড়কগাছ হয় পুলিশকর্মীদের। এরপর বৈধ নথিপত্র দেখাতে না পারায় লরিচালক গুরুজীন্দর সিং এবং খালাসি স্বপন দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃত লরিচালক জম্মুর এবং খালাসি শিলচরের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে।
ইতিমধ্যেই ধৃতদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এদিন সুপারিবোঝাই লরি আটক হওয়ার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে আসেন জেলা পুলিশ সুপার দ্যুতিমান ভট্টাচার্য, তুফানগঞ্জ এসডিপিও কান্নেধারা মনোজ কুমার, ওসি নকুল রায়। তাঁদের উপস্থিতিতে লরিতে তল্লাশি চালিয়ে বাজেয়াপ্ত করা হয় একের পর এক বস্তা সুপারি।
এপ্রসঙ্গে জেলা পুলিশ সুপার বলেন, ‘অসমের কোনও এক জায়গা থেকে তা পাচারের উদ্দেশ্যে উত্তরপ্রদেশের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাচার চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
প্রসঙ্গত, এই প্রথম অসম-বাংলা সীমান্ত থেকে মায়ানমারের বার্মা সুপারবোঝাই লরি আটকের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। তদন্তকারী পুলিশ অফিসারদের অনুমান, সীমান্তে পুলিশি নজরদারি এড়াতেই পাচারে অভিনব কায়দা অবলম্বন করা হয়েছিল।
