মালবাজার: চা বাগানঘেরা ছোট্ট জনপদে ১৯৬৪ সালে শুরু হয়েছিল পথচলা। সময়ের হাত ধরে আজ শহরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে দুই নম্বর ক্যালটেক্স মোড়ের দুর্গাপুজো। ৬৩তম বর্ষে পা রাখা এই পুজোর এবারের ভাবনা ‘নবজাগরণ বা রেনেসাঁ’। উদ্যোক্তাদের এই অভিনব ভাবনার কথা সামনে আসতেই গোটা শহর ও আশপাশের চা বলয়ের সাধারণ মানুষ ও দর্শনার্থীদের মধ্যে মণ্ডপসজ্জা নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রবল উদ্দীপনা। রেনেসাঁর সেই ধ্রুপদী শিল্পরীতিকে সঙ্গী করে মণ্ডপচত্বরে গড়ে উঠছে ‘কাল্পনিক গ্যালারি’।
প্রতিবছরই মণ্ডপসজ্জায় নতুনত্বের ছোঁয়া রাখেন উদ্যোক্তারা। তবে চলতি বর্ষে তাঁদের ভাবনা যেন যোগ করেছে এক ভিন্ন মাত্রা। শিল্পকলা ও ভাস্কর্যের ছোঁয়ায় মণ্ডপের পরতে পরতে ধ্রুপদী আবহ ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। সমগ্র মণ্ডপে স্থান পাবে নানা ভাস্কর্য ও চিত্রকর্মের নিখুঁত প্রতিরূপ।
একই সঙ্গে আবহমান লোকশিল্পের ঐতিহ্যে সাজবে প্রদর্শনী—রংবেরঙের মাটির পুতুল, বাঁশের সূক্ষ্ম কারুকাজ, কুলো, চালনি ও ঝুড়ির অপূর্ব সংমিশ্রণে মণ্ডপটি যেন দর্শনার্থীদের সরাসরি টেনে নিয়ে যাবে প্রাচীন শিল্পনিপুণতায় মোড়া এক স্বপ্নিল শিল্পশালায়। উৎসবের দিন ঘনিয়ে আসতেই জোরকদমে চলছে চূড়ান্ত প্রস্তুতি। পুজো কমিটির সম্পাদক শুভঙ্কর সেনগুপ্ত বলেন, ‘বিগত বছরের ধ্যানধারণা থেকে কিছুটা সরে এসে নতুনত্বের আঙিনায় নবজাগরণ বা রেনেসাঁর ভাবনায় কাল্পনিক গ্যালারি প্রতিফলিত হবে মণ্ডপজুড়ে। পাশাপাশি পুজোকে কেন্দ্র করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন থাকছে। সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব উপাদান দিয়ে আকর্ষণীয় কারুকার্য ফুটিয়ে তোলার কাজ চলছে।’
মণ্ডপের এই নান্দনিকতার সঙ্গে নিখুঁত সামঞ্জস্য বজায় রাখা হচ্ছে প্রতিমাতেও। শিলিগুড়ির কুমোরটুলির মৃৎশিল্পী গণেশ পালের হাতের জাদুতে সম্পূর্ণ সাবেকিয়ানায় ডাকের সাজে সাজবেন একচালার মা ও তাঁর সন্তানেরা। মণ্ডপ ও সংলগ্ন চত্বরে আলোর খেলায় থাকছে অভিনবত্ব। সঙ্গে সুপরিকল্পিত আবহসংগীতের সুরম্য ছোঁয়া ‘কাল্পনিক গ্যালারি’র পরিবেশকে জীবন্ত করে তুলবে বলে আশাবাদী উদ্যোক্তারা। পুজো কমিটির সভাপতি বিপ্লব সাহার কথায়, ‘দৃষ্টিনন্দন ও পরিবেশবান্ধব মণ্ডপ শহর সহ পার্শ্ববর্তী চা বলয়ের বিস্তীর্ণ অংশের দর্শনার্থীদের নজর কাড়বেই।’

