Durga Puja 2026 | ‘দসৈঁ’-এ শুরু নেপালিদের দুর্গাপুজো

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন
শারদোৎসব ২০২৬

তমালিকা দে, শিলিগুড়ি: কলস বা ঘট স্থাপনের মধ্য দিয়ে শিলিগুড়িতে শুরু হয়ে গিয়েছে নেপালি সম্প্রদায়ের দুর্গাপুজো (Durga Puja 2026)। যা তাঁদের কাছে ‘দশাইন’ নামে পরিচিত। নেপালিরা ঘটকে শুদ্ধতার প্রতীক বলে মনে করেন। তাই পবিত্র ঘট স্থাপন করেই এই পুজোর সূচনা হয়। এরপর থেকে নয়দিন ধরে সকাল ও বিকেলে উৎসব চলবে। শিলিগুড়ির (Siliguri) প্রধাননগরের গুরুংবস্তি ভানুভক্ত সমিতির তরফে গত ৩৫ বছর ধরে ধুমধাম করে এই পুজোর আয়োজন করা হচ্ছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। মহালয়ার পরদিন থেকেই এই নবরাত্রির অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে।

বাঙালিদের থেকে নেপালি সম্প্রদায়ের দুর্গাপুজোয় নানা আচার ও নিয়মরীতিতে বৈচিত্র্য রয়েছে। পুজোবেদির সামনে তাঁরা ধান ও গমের বীজ পোঁতেন। তাকে জামরা বলা হয়। নেপালি সম্প্রদায়ের মানুষের বিশ্বাস, এটি শস্য উর্বরতা, সুস্বাস্থ্য ও ভালো ফসলের প্রতীক। পুজোর শেষ দিনে জামরা পাঁচ থেকে ছয় ইঞ্চি লম্বা হলে তা কেটে মাথায় ও কানের পেছনে আশীর্বাদ হিসেবে গুঁজে নেওয়া হয়। তার সঙ্গে প্রতিটি পরিবারের বড়রা ছোটদের কপালে চাল, দই ও আবিরের টিপ পরিয়ে দেন।

আরও বিভিন্ন আকর্ষণীয় উপচারে ভরা দুর্গাপুজোর আয়োজন করা হয়। নয়দিন নয় রকমের ফুল ব্যবহার করা হয়। যেমন জবা, গাঁদা, নীলকণ্ঠ, আমপাতা ও বেলপাতা দিয়ে পুজো করা হবে। সেইসঙ্গে প্রতিদিন পানপাতা ও সুপারি দেওয়া হয়। ভোগে থাকে কলা, ডালিম, মুসম্বি ও আপেলের মতো ফল। শুধু নানা উপকরণে পুজোর আয়োজনই নয়, সপ্তমীতে ঠাকুরের ছবি পালকিতে বসিয়ে একটি শোভাযাত্রাও বের হবে। রবিরত্ন বালিকা বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে শুরু হয়ে শোভাযাত্রাটি হিলকার্ট রোড ও হাসমি চক অতিক্রম করবে। শোভাযাত্রায় ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা দুর্গা, লক্ষ্মী, গণেশ ও কার্তিক সেজে অংশ নিয়ে মেতে উঠবে পুজোর আনন্দে।

নেপালি সম্প্রদায়ের পুজো হলেও উৎসবের দিনগুলিতে মাড়োয়ারি, বাঙালি সহ সব সম্প্রদায়ের মানুষ তাতে যোগ দেন। এপ্রসঙ্গে সমিতির সম্পাদক কৃষ্ণ লামা বলেছেন, ‘আমরা পুজোর কয়েকদিন সবাই একসঙ্গে আনন্দ করে থাকি। নিয়মনিষ্ঠা মেনে পুজোর আয়োজন করা হয়। এবার ১৬ অক্টোবর প্রতিমা আনা হবে। ১৭ অক্টোবর হবে ফুলপাতি উৎসব। সেই উপলক্ষ্যে বড় শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। প্রচুর মানুষ একত্রিত হয়ে উৎসবের আনন্দে মেতে উঠবেন।’ পুজোর নানা কাজে জড়িয়ে থাকবেন নেপালি সম্প্রদায়ের প্রচুর মানুষ। তাঁদের মধ্যে জনৈক রিতারানি টিকাত্রী বলেন, ‘নয়দিন নয় রকমের ফুল দিয়ে মায়ের পুজো করা হয়ে থাকে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *