নৃসিংহপ্রসাদ গঙ্গোপাধ্যায়, কুমারগ্রাম: মায়াপুরের বিখ্যাত ইসকন মন্দির দেখতে আর মায়াপুরে যেতে হবে না। ইন্দো-ভুটান সীমান্তে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর কুমারগ্রামেই (Kumargram) সেই মন্দির দেখতে পারবেন এলাকাবাসী! প্রত্যেকবারই থিমের বৈচিত্র্যে দর্শকদের চমক দেওয়ার চেষ্টা করে আসছে ফ্রেন্ডস ইউনিয়ন ক্লাব। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। পুজোর (Durga Puja 2026) ৯৬তম বর্ষে মায়াপুরের ইসকন মন্দিরের আদলে তৈরি হচ্ছে মণ্ডপ।
গত বছর কেদারনাথ মন্দির এবং তার আগের বছর পুরীর জগন্নাথধামের আদলে তৈরি মণ্ডপ দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছিল। এবার মায়াপুরের ইসকন মন্দিরের আদলে গড়া পুজোমণ্ডপও ছোট থেকে বড়, সবার মনে সাড়া ফেলবে বলে আশাবাদী উদ্যোক্তারা। ক্লাবের সদস্য অপু ঘটক জানালেন, এবার পুজোর প্রায় ৭ লক্ষ টাকার বাজেট ধরা হয়েছে।
প্রায় ৪৫ ফুট উচ্চতা এবং ৩৮ ফুট প্রস্থের বিশাল পুজোমণ্ডপে ফুটে উঠবে মায়াপুরের ইসকন মন্দির। কাঠ, বাঁশ, কাপড়, প্লাইউড, থার্মোকল ও পেরেক সহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে মণ্ডপ। রামপুর ফলিমারির বাসিন্দা মণ্ডপশিল্পী অসীম সরকার মন্দিরের স্থাপত্যশৈলী ফুটিয়ে তোলার দায়িত্বে রয়েছেন। এখন শেষমুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে, জানালেন যুগ্ম সম্পাদক দীপ পাল ও চন্দন ডাকুয়া।
মণ্ডপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আলোর সাজেও থাকছে বিশেষ পরিকল্পনা। আলোকশিল্পী সুদীপ তালুকদারের ভাবনায় উৎসবের রাতে আলোর রোশনাইয়ে আরও জীবন্ত হয়ে উঠবে গোটা পুজো প্রাঙ্গণ। থিমের চাকচিক্যের মধ্যেও অবশ্য পুজোর ঐতিহ্য আঁকড়ে ধরে রেখেছে কমিটি। পুরোনো রীতি মেনে থাকছে ডাকের সাজে সাবেকি প্রতিমা। পুজোর নিয়মনিষ্ঠার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কোচবিহার জেলার চৌধুরীহাটের পুরোহিত বিশ্বজিৎ হাজরা এবারও পুজো করবেন। কুমারগ্রামের তরুণ মৃৎশিল্পী শিবেস নাগের হাতে গড়া সাবেকি দেবী প্রতিমা দর্শনে পুজোর প্রথম দিন থেকেই উৎসাহী মানুষের ভিড় উপচে পড়বে বলে পুজো উদ্যোক্তাদের আশা।
পুজো কমিটির সভাপতি কিশোর বাজপেয়ী বললেন, ‘এখানের পুজোর অন্যতম আকর্ষণ অষ্টমীর প্রসাদ বিতরণ। সেদিন দর্শনার্থী এবং ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিলি করা হবে।’
অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দা দীপ্তি দেবনাথ বললেন, ‘বিয়ের পর পঁচিশ বছর ধরে উপোস থেকে এই পুজোর কাজ করি। এলাকায় কাছাকাছির মধ্যে এই পুজোটাই বড় করে হয়। তাই এলাকার সবাই এই পুজোয় অংশ নিই। একসঙ্গে পুজোর কাজ করি, মজা করি।’ তিনি জানান, তাঁর পরিবারের বাকি সদস্যরাও পুজোর দিনগুলোতে বেশিরভাগ সময় এই পুজোমণ্ডপেই কাটান। প্রত্যেক সন্ধ্যায় ছোট থেকে বড়, সকলের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

