ফ্লাই দুবাইয়ে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। দুবাই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ওমানের জঙ্গি পাইলট হামাম আল হামামির আরও ২ সহকর্মী। গ্রেপ্তার হওয়া এই দুই পাইলট মালদ্বীপের নাগরিক বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ দায়ের করেছে পুলিশ। শনিবার গ্রেপ্তার হওয়া এই দুই পাইলট ইজরায়েলেও সফর করেছিলেন বলে তদন্তকারী সূত্রে দাবি।
মালদ্বীপের সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে অবস্থিত মালদ্বীপের দূতাবাসের তরফে ওই দুই পাইলটের পরিবারকে গ্রেপ্তারির খবর জানানো হয়। ফ্লাই দুবাইয়ে সর্বশেষ যে ৬ জন মালদ্বীপের পাইলটকে নিয়োগ করা হয়েছিল তাঁদেরই দু’জন এরা। ৩০ সেপ্টেম্বর বিমান হাইজ্যাকের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হামামির সঙ্গেই কাজ করতেন এরা। যদিও প্রশাসনের তরফে এখনও তাঁদের গ্রেপ্তারি নিয়ে সরকারিভাবে কিছুই জানানো হয়নি। তবে তদন্তকারীদের অনুমান, এই দুই পাইলট হামামির সঙ্গেই বিমান হাইজ্যাকের ষড়যন্ত্র করেছিল।
আরও পড়ুন:
সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে অবস্থিত মালদ্বীপের দূতাবাসের তরফে ওই দুই পাইলটের পরিবারকে গ্রেপ্তারির খবর জানানো হয়।
এদিকে ওই বিমানে সফর করা আসাফ নামে এক যাত্রীর বয়ান সামনে এসেছে। যেখানে দাবি করা হয়েছে, ঘটনার সময় কিছু ক্রু সদস্য ছবি ও ভিডিও তুলতে বাধা দিচ্ছিলেন। এমনকী ক্রু সদস্যরা আহত ভারতীয় ক্যাপ্টেনের মুখে এক অদ্ভুত বড়ি ঢোকানোর চেষ্টা করেন। আসাফের মতে ওই বিমানে শুধুমাত্র পুরুষ ক্রু সদস্য ছিলেন। ফলে অনুমান করা হচ্ছে, অভিযুক্ত হামামির সঙ্গে এই ষড়যন্ত্রে আরও কেউ হয়ত লিপ্ত ছিলেন। তদন্তকারীদের অনুমান, এই ষড়যন্ত্র একজন ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। হয়ত এই ঘটনার নেপথ্যে আরও অনেকে জড়িত রয়েছেন। গোটা ঘটনার তদন্ত করছে দুবাই পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিব যাচ্ছিল ফ্লাই দুবাই ১০৭৩। সেই বিমান হাইজ্যাকের চেষ্টা করে বিমানের সহকারী পাইলট হামাম আল হামামি। তদন্তকারীদের জেরায় হামামি ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, ক্যাপ্টেনকে খুনের পর বিমানটি স্বাভাবিক ভাবেই তেল আভিভের দিকে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। সেখানে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে অবতরণের অনুমতি নিয়ে শেষ মুহূর্তে টার্মিনাল বা অন্য কোনও বিমানের উপর আছড়ে পড়াই ছিল উদ্দেশ্য। ইতালির এক সংবাদপত্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামামির পরিকল্পনা ছিল ক্যাপ্টেন স্মিতকে হত্যা করা। এরপর তেল আবিবের কোনও বহুতলে সেটিকে আছড়ে ফেলা। সেই লক্ষ্যে ককপিটে নমাজ পড়ার অছিলায় ককপিটে থাকা কুড়াল বের করে ক্যাপ্টেনকে আক্রমণ করে সে।
রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, প্রথম পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার পর শেষ মুহূর্তে বিমানটিকে মরুভূমিতে বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করে হামামি। নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয় অটো পাইলট। মাত্র ৩০ সেকেন্ডে বিমানটি প্রায় ১৬,০০০ ফুট নিচে নেমে যায়। গুরুতর আহত অবস্থাতেও ক্যাপ্টেন মচ্ছর ককপিটের দরজা খুলে বিপদ সংকেত পাঠাতে সক্ষম হন। এরপর কেবিন ক্রু, যাত্রী এবং বিমানে থাকা দুই অফ-ডিউটি পাইলট মিলে হামামিকে কাবু করেন। বিমানটিকে সৌদি আরবে অবতরণ করানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হামামি বর্তমানে চিকিৎসাধীন আবুধাবিতে। তাঁর সাহসিকতায় প্রশংসায় পঞ্চমুখ গোটা বিশ্ব।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
