গৌরহরি দাস, কোচবিহার : জেলা সভাপতির কাছ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ পাওয়ার পর কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ আগেই জানিয়েছিলেন, তিনি জেলা সভাপতির নির্দেশ মানবেন না। রাজ্য থেকে নির্দেশ না দিলে বা মুখ্যমন্ত্রী না বললে চেয়ারম্যানের পদ থেকে তিনি পদত্যাগ করবেন না। এবার নিজের শক্তি প্রদর্শনের জন্য দলে নিজের অনুগামীদের নিয়ে তৃণমূলের মুখপাত্র পার্থপ্রতিম রায়ের বাড়িতে বৈঠক করলেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। বৈঠকে দলের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি পরিমল বর্মন, খোকন মিয়াঁ, আবেদ আলি মিয়াঁ, শিবু পাল ছাড়াও দলের পুরোনো দিনের নেতা লক্ষ্মীকান্ত সরকার, সায়ের আলি মিয়াঁ, আজিজুল হক, কমলেশ অধিকারী সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্তের সবমিলিয়ে শ’দেড়েক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
কোচবিহার-২ ব্লকের তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি তথা তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের রাজ্য সহ সভাপতি পরিমল বর্মন বলেন, ‘বর্তমানে জেলায় যে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট চলছে তা নিয়ে এদিনের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। একতরফাভাবে জেলায় দলের পুরোনো দিনের নেতাদের ছেঁটে ফেলার যে চক্রান্ত চলছে সেটা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। জেলায় প্রথম দিন থেকে দলকে যিনি দাঁড় করিয়েছেন, আমাদের সেই নেতা রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে ছেঁটে ফেলার যে চক্রান্ত চলছে, আমরা সকলেই মনে করছি, সেটা ঠিক নয়। তাই আমরা ঠিক করেছি, বিষয়টি লিখিতভাবে মুখ্যমন্ত্রীকে জানানো হবে। এরপর মুখ্যমন্ত্রী বা সুব্রত বক্সী যদি আমাদের বলেন চুপ করে বসে থাকতে, আমরা চুপ করে বসে থাকব।’ একই সুর প্রাক্তন ব্লক সভাপতি খোকন মিয়াঁর গলাতেও।
বিধানসভা নির্বাচনের আগে চেয়ারম্যানের পদ থেকে রবি ঘোষের পদত্যাগ ইস্যু নিয়ে দলের মধ্যে এমন বিদ্রোহ দেওয়ায় যথেষ্ট বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে দলের নীচুতলার কর্মীদের মধ্যে। তাঁদের মতে, পদত্যাগ ইস্যু নিয়ে কোচবিহারে দলের অন্দরে যা ঘটছে, তা কোনওভাবেই কাম্য নয়। এতে দলেরই ক্ষতি হচ্ছে। রাজ্য নেতৃত্বের উচিত অবিলম্বে বিষয়টি হস্তক্ষেপ করা।
বৈঠকের পর এদিন দলের মুখপাত্র পার্থপ্রতিম রায় বলেন, ‘সোমবার আমার বাড়ির অফিসে দলের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা সকলে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। আলোচনায় বেশ কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেগুলি দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। আমিও তাতে সহমত প্রকাশ করেছি।’
রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, ‘এদিন দলের মুখপাত্র পার্থপ্রতিম রায়ের বাড়িতে একটা বৈঠক হয়েছে। সেখানে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমি আমার স্ট্যান্ড সেখানে তুলে ধরেছি। সবাই সেটা সমর্থন করেছেন। পাশাপাশি আগামীদিনের কিছু কর্মসূচিও আমরা আলোচনা করেছি।’
কোচবিহারে দলের প্রথম দিন থেকে রবির সঙ্গে ছিলেন দলের বর্তমান জেলা সহ সভাপতি আবদুল জলিল আহমেদ। তিনি বলেন, ‘প্রথম দিন থেকে রবি আর আমি ছিলাম, এটা সত্যি কথা। তবে দল যখন যা নির্দেশ দেয় সেটা মানা উচিত। পদত্যাগ নিয়ে যে নির্দেশটা এসেছে সেটা রাজ্যের নির্দেশ বলেই আমি জানি।’
তৃণমূলের জেলা চেয়ারম্যান গিরীন্দ্রনাথ বর্মন বলেন, ‘রবির অনুগামীরা মুখ্যমন্ত্রীকে জানানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেটাকে স্বাগত জানাই।’ জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক ফোন না ধরায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
