Raiganj medical | রেফার রোগে আক্রান্ত মেডিকেল, রায়গঞ্জে নেই নিউরোসার্জন

Raiganj medical | রেফার রোগে আক্রান্ত মেডিকেল, রায়গঞ্জে নেই নিউরোসার্জন

ব্লগ/BLOG
Spread the love


বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ : সম্প্রতি বাইক রাইড করে সিকিমে যাওয়ার পথে এক দম্পতি পথ দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হন। দুজনের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ শুরু হওয়ায় তাঁদের রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার করা হয়। কারণ, এখানে নিউরো সার্জারির ব্যবস্থা নেই। তবে বাড়ি দক্ষিণবঙ্গে হওয়ায় কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন পরিবারের লোকেরা। রায়গঞ্জ থেকে কলকাতায় নিয়ে যাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হলেও, কোনও উপায় না থাকায় তাঁদের ঝুঁকি নিতে হচ্ছে, মেডিকেলে দাঁড়িয়ে বললেন ওই দম্পতির আত্মীয় আশুতোষ মাইতি ও তন্ময় রায়।

প্রায় দিনই এমন ঝুঁকি নিয়ে রায়গঞ্জ থেকে শিলিগুড়ির উদ্দেশে রওনা দিতে হয় পথ দুর্ঘটনায় জখমকে নিয়ে তাঁর আত্মীয়দের। কারণ, ট্রমা কেয়ার সেন্টার তো দূরের কথা, এখানকার মেডিকেলে নেই একজন নিউরোসার্জন। মেডিকেল সূত্রেই খবর, চলতি বছর এখন পর্যন্ত পথ দুর্ঘটনায় জখম ১১৭ জনকে রেফার করা হয় শিলিগুড়ির উত্তরবঙ্গ মেডিকেলে। দূরত্বের জন্য সঠিক সময়ে পৌঁছে চিকিৎসা শুরু না হওয়ায়, পথেই মৃত্যু হয়েছে ৭০ জনের। রবিবারই মৃত্যু হয়েছে একটি মিষ্টির দোকানের কর্মচারী রেজাউল হকের (২০)। যদিও মেডিকেল থেকে তাঁকে রেফার করা হলেও, আর্থিক ক্ষমতা না থাকায় তাঁকে পরিবারের লোকজন উত্তরবঙ্গ মেডিকেলে নিয়ে যেতে পারেননি। রায়গঞ্জ মেডিকেলেই মৃত্যু হয় তাঁর। গত ৭ নভেম্বর রামপুর লহন্ডায় পথ দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছিসেন তিনি। সম্পর্কে তাঁর দাদা স্মাইল হক বলেন, ‘ওর মা ভিক্ষাবৃত্তি করেন। চিকিৎসক উত্তরবঙ্গ মেডিকেলে রেফার করেছিলেন। পাড়ার লোকেরা মিলে চাঁদা তুলে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু চাঁদা তোলা শেষ না হতেই মৃত্যুর খবর কানে এল। যদি রায়গঞ্জ মেডিকেলে নিউরো সার্জারির ব্যবস্থা থাকত, তবে ভাইয়ের মৃত্যু হত না।’

রায়গঞ্জ থেকে উত্তরবঙ্গ মেডিকেলে নিয়ে যাওয়ার পথে গত ৬ নভেম্বর মারা যান হেমতাবাদের অমল সোরেন (২৬)। তিনিও পথ দুর্ঘটনায় জখম হয়েছিলেন। আর্থিক অনটনের জন্য সঠিক সময়ে পরিবারের লোকজন শিলিগুড়ি নিয়ে যেতে পারেননি। অমলের দাদা সনাতন সোরেন বলেন, ‘চিকিৎসক উত্তরবঙ্গ মেডিকেলে রেফার করেছিলেন। অর্থের অভাবে রেফারের দিন নিয়ে যেতে পারিনি। ভাইকে বাঁচাতে পারলাম না।’ চার লক্ষ টাকা খরচ করেও ছেলেকে বাঁচাতে পারেননি রায়গঞ্জের আশুতোষ বর্মন। তাঁর বক্তব্য, ‘পথ দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম ছেলেকে রায়গঞ্জ মেডিকেলে ভর্তি করা হলে এখান থেকে উত্তরবঙ্গ মেডিকেলে রেফার করা হয়। উত্তরবঙ্গ মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হলেও, বেড না পাওয়ায় একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে চিকিৎসা চলে। জমি বন্ধক রেখে টাকার জোগাড় হলেও সাতদিন চিকিৎসার পর মৃত্যু হয় ১৮ বছরের ছেলের।’

এমন মৃত্যুর সংখ্যা গুনে শেষ করা যায় না। রায়গঞ্জ মেডিকেলের শল্য চিকিৎসক সঞ্জয় শেঠের স্বীকারোক্তি, ‘নিউরোসার্জন নেই। একাধিক যন্ত্রপাতি না থাকার পাশাপাশি এমআরআইয়ের ব্যবস্থা না থাকায় উত্তরবঙ্গ মেডিকেলে রেফার করতে হয়। সংশ্লিষ্ট বিভাগের চিকিৎসক না থাকলে আমরা কী করব।’ রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সুপার প্রিয়ঙ্কর রায় বলেন, ‘দুর্ঘটনায় মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হলে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে রেফার করা ছাড়া কোনও উপায় নেই। নিউরোসার্জন অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। চিকিৎসকের পাশাপাশি যন্ত্রপাতি চেয়ে স্বাস্থ্য ভবনে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

উত্তর দিনাজপুর নাগরিক কমিটির সম্পাদক তপন চৌধুরী বলেন, ‘রায়গঞ্জ মেডিকেলে ট্রমা কেয়ার ইউনিট থাকলে প্রচুর প্রাণ বাঁচত।’ ট্রমা কেয়ার ইউনিটের আশ্বাস দিয়ে বিধানসভার স্বাস্থ্য বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ডাঃ নির্মলকুমার মাজি বলেন, ‘রায়গঞ্জ মেডিকেল সংলগ্ন বিডিও-র অফিস ক্যাম্পাসে ট্রমা কেয়ার ইউনিট তৈরি হবে। বিডিও অফিস চলে যাবে কর্ণজোড়ায়। রাজ্য সরকারকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *