রাজা বন্দ্যোপাধ্যায়, দুর্গাপুর: শিল্পনগরী দুর্গাপুর (Durgapur) বৃহস্পতিবার এক নজিরবিহীন প্রশাসনিক তৎপরতার সাক্ষী থাকল। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম দুর্গাপুর সফরে এলেন শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। এদিন বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ অন্ডাল বিমানবন্দরে অবতরণের পর থেকেই গোটা শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা বলয় ছিল চোখে পড়ার মতো। মুখ্যমন্ত্রীর সফর ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তৈরি হয়েছিল প্রবল কৌতূহল।
বিমানবন্দর থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সড়কপথে দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার এলাকায় পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী। সঙ্গে ছিলেন দুই সাংসদ ও স্থানীয় বিধায়ক। সিটি সেন্টারে একটি হুডখোলা গাড়িতে করে জনসংযোগমূলক র্যালিতে অংশ নেন তিনি। রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের অভিবাদনের জবাব দিয়ে তিনি সরাসরি পৌঁছান সৃজনী প্রেক্ষাগৃহে। সেখানে প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা তাঁকে গার্ড অফ অনার দিয়ে স্বাগত জানান। মুখ্যমন্ত্রীর আগমন ঘিরে গোটা এলাকা ঘিরে ফেলেছিল নিরাপত্তা বাহিনী, ছিল কঠোর নজরদারি।
সৃজনী প্রেক্ষাগৃহে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকে হাজির ছিলেন পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, বীরভূম ও পুরুলিয়া—এই পাঁচটি জেলার জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার এবং বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকরা। এছাড়াও রাজ্যের মন্ত্রিসভার ৫ জন সদস্য এবং নবনির্বাচিত বিধায়করা এই বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, পাঁচটি জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন, শিল্প ও পরিকাঠামোর প্রসার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং গ্রামীণ পরিষেবা সম্প্রসারণ নিয়ে বৈঠকে বিশদ আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে সরকারি প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোথায় গতি আনার প্রয়োজন, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শিল্পনগরীর হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক বিকাশে এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এটি তাঁর প্রথম দুর্গাপুর সফর হওয়ায়, স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশার পারদ ছিল তুঙ্গে। প্রশাসনিক শৃঙ্খলার পাশাপাশি জনগনের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের এই প্রক্রিয়া নতুন সরকারের কাজের ধরন সম্পর্কে এক সুস্পষ্ট বার্তা দিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
