AI Ramayana net sequence | পুরাণ ও প্রযুক্তির অভাবনীয় মেলবন্ধন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে রামায়ণ নিয়ে মেগা সিরিজ উত্তরবঙ্গের তরুণদের

ব্লগ/BLOG
Spread the love


দেবদর্শন চন্দ, কোচবিহার: মেলালেন রামচন্দ্র মেলালেন। মিলিয়ে দিলেন উত্তরবঙ্গ (North Bengal) ও নেদারল্যান্ডসকে। মিলিয়ে দিলেন পুরাণ ও অ্যানিমেকে।

বলিউড (Bollywood) যখন প্রায় চার হাজার কোটি টাকা বাজেট নিয়ে ‘রামায়ণ’ (AI Ramayana net sequence) তৈরিতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে হাতিয়ার করে রামায়ণ নিয়ে ৪৪টি পর্বের ওয়েব সিরিজ তৈরি করলেন উত্তরবঙ্গের একদল তরুণ। ‘রামায়ণ : পাথ অফ ধর্মা’ নামের সেই সিরিজটির প্রোডিউসার রুড হুইসম্যান নেদারল্যান্ডসের বাসিন্দা। কোনও লাইভ শুটিং বা কোটি কোটি টাকার সেট ছাড়াই সম্পূর্ণ এআই প্রযুক্তির সাহায্যে এই কামাল করে ফেলেছেন কোচবিহারের সুব্রত পোদ্দার ও তাঁর টিম। ভিজুয়াল এফেক্ট সহ সমস্ত চরিত্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি করা হলেও চরিত্রগুলিতে কণ্ঠ কিন্তু দিয়েছেন দেশের সেরা ভয়েস আর্টিস্টরা। প্রাথমিকভাবে ভাবা হয়েছে তিনটি সিজনের কথা। রামের অকালবোধনের ফলে যে দুর্গাপুজোর প্রচলন, এবার সেই পুজোর মাসেই নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে মুক্তি পাবে সেই ওয়েব সিরিজ।

রামায়ণ তো বহুপঠিত, বহুশ্রুত। কিন্তু সুব্রতরা গল্পটা বলেছেন অন্যভাবে। একেবারে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে। রবিবার কোচবিহার প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে উদ্যোক্তারা প্রোজেক্টটির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। প্রায় ১৬ ঘণ্টার এই সিরিজে রাম, সীতা, লক্ষ্মণ, হনুমান সহ প্রতিটি চরিত্র, অযোধ্যার রাজপ্রাসাদ থেকে সঞ্জীবনী পর্বত পর্যন্ত প্রতিটি ভিজুয়াল তৈরি করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়েই। তবে সিরিজটির প্রযুক্তি কৃত্রিম হলেও অভিনীত চরিত্রগুলিতে প্রাণ সঞ্চার করতে কণ্ঠ দিয়েছেন সংকেত মহাত্রে, সোনাল কৌশল এবং রাজেশ কাভা-র মতো শিল্পীরা, যাঁরা বলিউডের একাধিক সুপারহিট ছবিতে ডাবিং করেছেন। সিরিজটির পরিচালক সুব্রত বলেন, ‘বলিউডের মতো বিপুল টাকা খরচ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। তাই অত্যাধুনিক এআই প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমরা এই ভিজুয়াল ক্যানভাস তৈরি করেছি।’ পরিচালক আরও জানান, এই উদ্যোগটিতে কোচবিহারের পাশাপাশি শিলিগুড়ি, দার্জিলিং, কলকাতা ও দিল্লির বহু তরুণ-তরুণীর যৌথ প্রচেষ্টা রয়েছে। মহাকাব্যের মূল বিষয়টি এক রেখে আধুনিক দৃষ্টিকোণ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণের মাধ্যমে সাজানো হয়েছে সিরিজটি।

কোচবিহারের ছেলে সুব্রত দীর্ঘদিন ধরেই ভিজুয়াল আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করেন। তাঁর নিজস্ব অফিস ও টিমও রয়েছে। সেই কাজের সুবাদেই রুডের সঙ্গে তাঁর পরিচয়। রামায়ণের প্রোজেক্টটি নিয়ে আলোচনা শুরু হতেই রুড আগ্রহ দেখান। কাজে নেমে পড়েন সুব্রত। উত্তরবঙ্গের একঝাঁক তরুণের এই মিলিত প্রয়াস ইতিমধ্যেই সোশাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।

গত কয়েক বছরে প্রযুক্তিনির্ভর গল্প বলার ক্ষেত্রে এআই ও অ্যানিমেশন দ্রুত জায়গা করে নিয়েছে। রামায়ণও সেই পরীক্ষার বাইরে নেই। সুব্রতদের কাজের ট্রেলার ঘিরে আগ্রহের কারণটা তাই স্পষ্ট। রামায়ণের গল্প বদলায়নি। বদলেছে তাকে দেখার ভঙ্গিমা।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *