নিতাই সাহা, শিলিগুড়ি: আকাশে-বাতাসে শিউলি ও পেঁজা তুলোর মতো মেঘের এক অনাবিল মিশেল। দিকে দিকে কাশফুলের অপরূপ শোভা। ক্যালেন্ডারের পাতায় চোখ ঘোরালেই স্পষ্ট, পুজোর (Durga Puja 2026) আর বেশি দেরি নেই। স্বাভাবিকভাবেই প্যান্ডেল হপিংয়ের জন্য ট্রেন্ডি পোশাকের খোঁজে দোকান ও শপিং মলগুলিতে ভিড় উপচে পড়ছে। তবে কেনাকাটার আনন্দে গৃহকর্ত্রীরা ঘরের আরাধ্য নাড়ুগোপাল কিংবা লক্ষ্মীনারায়ণকে ভুলে যাননি। পুজোর আমেজ দ্বিগুণ করতে নিজেদের সাজিয়ে তোলার আগেই তাঁরা দেবদেবীদের জন্য পুজো স্পেশাল ট্রেন্ডি পোশাক (Puja buying) ও মানানসই গয়নার খোঁজে বেরিয়ে পড়েছেন।
শিলিগুড়ি (Siliguri) শহরের বাবুপাড়ার বাসিন্দা কাকলি সাহার বাড়িতে কয়েক দশক ধরে গোপাল অধিষ্ঠিত। পুজোর মরশুমে আরাধ্য গোপালকে মনের মতো সাজাতে কোনও খামতি রাখেন না তিনি। প্রায় ২৩ বছর ধরে পুজোর আগে গোপালের জন্য নতুন পোশাক কেনার রেওয়াজ ধরে রেখেছেন। তিনি বলেন, ‘গোপালের জন্য নতুন পোশাক ও মুকুট কেনা হল। এই কেনাকাটার মধ্যে দিয়েই পুজোর শপিং শুরু হল। এবার বাড়ির সদস্যদের জন্য জামাকাপড় কেনাকাটা শুরু হবে।’
রবিবার ছুটির দিনে শহরের কালীবাড়ি রোড এলাকায় ঠাকুরের পোশাকের দোকানগুলিতে আমজনতার উপচে পড়া ভিড় দেখা গেল। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেবদেবীদের ট্রেন্ডি পোশাকে বাজার ছেয়ে গিয়েছে। বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, এবছর ডাংড়ি বিশেষ নজর কেড়েছে। গোপাল কিংবা রাধারানির জন্য অনেকেই ডাংড়ি খুঁজছেন। পাশাপাশি গোল পোশাক, নাইট ড্রেস, আতর, খেলনা, রাধার ঘাগরা, বেনারসি, শিবের বাঘছাল ও লোকনাথের ধুতির চাহিদাও তুঙ্গে।
ষষ্ঠী থেকে দশমী প্রতিদিনের জন্য অনেকেই আলাদা পোশাক কিনছেন। মিলনপল্লির বাসিন্দা সুমি ঘোষ গোপালের গোল পোশাক ও রাধার জন্য চার জোড়া ঘাগরা কিনেছেন। তিনি বলেন, ‘পুজোর প্রতিদিন গোপাল ও রাধাকে নতুন পোশাক পরানো হবে।’ পাতি কলোনির বাসিন্দা সুবীর দে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে গোপালের গয়না কিনতে এসেছিলেন। তিনি বলেন, ‘প্রায় ১৩ বছর ধরে পুজোর সময় গোপালের জন্য নতুন পোশাক ও গয়না কেনা হয়। এছাড়াও পুজোর ক’টা দিন বাড়িতে গোপালের প্রিয় খাবার লুচি, পায়েস, সুজি, খিচুড়ি ভোগ হিসেবে নিবেদন করা হয়।’ ব্যবসায়ী টোকন পাল বলেন, ‘পুজোর মরশুমে ক্রেতাদের নজর কাড়তে সমস্ত বিগ্রহের পোশাকের সম্ভার রয়েছে। সবটাই বৃন্দাবন থেকে আনা হয়।’ অপর এক ব্যবসায়ী উৎপল সাহা বলেন, ‘পুজোর বাজার বেশ জমে উঠেছে। তবে দিন দুয়েক বাদে ক্রেতাদের ভিড় আরও বাড়বে। এবছর ট্রেন্ডিং পোশাক হিসেবে ডাংড়ির বিশেষ চাহিদা রয়েছে।’

