পূর্ণেন্দু সরকার, জলপাইগুড়ি: তিস্তার বন্যা মোকাবিলা নিয়ে বৈঠক ডাকল ব্রহ্মপুত্র বোর্ড (Brahmaputra Board)। বোর্ডের ফ্লাড ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট টিম ১৫ অগাস্ট শিলিগুড়িতে বৈঠকটি ডেকেছে। বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম ও কেন্দ্রের একাধিক দপ্তরের বিশেষজ্ঞ এবং আধিকারিকদের পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট দুই রাজ্যের ড্যামগুলির উচ্চপদস্থ ইঞ্জিনিয়ারদের উপস্থিত থাকতে বলেছে বোর্ড।
রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর কেন্দ্রীয় জলশক্তিমন্ত্রকের উদ্দেশ্যে তিস্তার বন্যা, অগভীরতার বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠানো হয়েছিল। রাজ্যের তরফে সেই রিপোর্টে ২০২৩ সালে সিকিমের লেক বিপর্যয়ের পর উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু এলাকা বন্যাপ্রবণ বলে চিহ্নিত হয়। সেই রিপোর্টে বলা হয়, বহু জায়গায় তিস্তার নদীখাত বদলেছে। সমতলে তিস্তা নদীবক্ষজুড়ে বালি, পাথর, আবর্জনার স্তূপ জমে নদীখাত উঁচু করেছে। ২০২৩-এর পর তিস্তার গভীরতা বাড়াতে ড্রেজিং হয়নি। তাছাড়া, সেই বিপর্যয়ের পর গজলডোবার তিস্তা ব্যারেজের গভীরতাও কমেছে। তাছাড়া, সিকিম পাহাড় থেকে সমতলে নামার আগে একাধিক ব্যারেজে তিস্তার জল আটকে রাখতে হয়। যার মধ্যে রংলি, রংগিত, কালীঝোরা, তিস্তা ব্যারেজ সহ আরও কয়েকটি ড্যাম সিকিমের উঁচু এলাকায় রয়েছে। ২০২৩-এর লেক বিপর্যয়ের পর সেই ড্যাম ও ব্যারেজগুলির কী অবস্থা রয়েছে তাও ব্রহ্মপুত্র বোর্ড বৈঠকে আলোচনা করা হবে।
শিলিগুড়িতে বোর্ড এবার প্রথম বড় আকারের বৈঠক ডাকায় আশার আলো দেখছে সেচ দপ্তর। বিভিন্ন প্রকল্পের অনুমোদন ও বরাদ্দ পেতেও সমস্যা হবে না বলে মনে করছেন সেচ দপ্তরের উচ্চপদস্থ ইঞ্জিনিয়ার ও আধিকারিকরা। তিস্তা ব্যারেজের চিফ ইঞ্জিনিয়ার কৃষ্ণেন্দু ভৌমিক জানিয়েছেন, বৈঠকে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এখনই কিছু বলতে পারব না। রাজ্যের সঙ্গে কথা বলেই যা বলার সেখানেই বলব।’
শিলিগুড়ির বৈঠক শুরুর আগে বোর্ডের তরফে জলশক্তিমন্ত্রক, কেন্দ্রীয় জল অনুসন্ধানকেন্দ্র সহ ন্যাশনাল ড্যাম সেফটি কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিমের সেচ, ড্যাম, ব্যারেজ কর্তৃপক্ষের আধিকারিক ও ইঞ্জিনিয়ারদের বিশেষ রিপোর্ট ও নোট, সঙ্গে আনতে বলেছে বোর্ড।

