উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta Excessive Court docket) চত্বরে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলার সাক্ষী থাকল রাজ্য রাজনীতি। ভোট-পরবর্তী হিংসার মামলায় সওয়াল করতে এসে বিক্ষোভের মুখে পড়লেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে লক্ষ্য করে ‘চোর-চোর’ স্লোগান এবং কুমন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যখন রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে, ঠিক তখনই রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya response) দাবি করলেন, এই বিক্ষোভ তৃণমূলেরই ‘কৃতকর্মের ফল’।
এদিন প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের এজলাসে ভোট-পরবর্তী হিংসা (Publish Ballot Violence) নিয়ে সওয়াল করেন মমতা। এজলাস থেকে বেরোনোর সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, তাঁকে ঘিরে ধরে স্লোগান দেওয়া হয়। মমতা আইনজীবীদের একাংশের দিকে আঙুল দেখিয়ে বলেন, “ওরা আমাকে মেরেছে।” পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরাপত্তারক্ষীদের হিমশিম খেতে হয়। তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনায় আদালতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
তবে এই বিক্ষোভে বিজেপির যোগসূত্রের দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর মতে, “একজন মহিলা তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে অপমান করা বিজেপির সংস্কৃতি নয়। এই বিক্ষোভ বিজেপির সাজানো নয়, বরং তৃণমূলের অন্দরের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।” শমীকের দাবি, এটি তৃণমূলের ‘হ্যাভস’ (যারা পেয়েছে) এবং ‘হ্যাভস নট’ (যারা পায়নি)-দের লড়াই। অর্থাৎ, দলের বঞ্চিত অংশই আজ সরব হয়েছে। তিনি সাফ জানান, তৃণমূল যা করেছে, এটি তারই প্রতিক্রিয়া।
আদালতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে, রাজ্যে প্রায় ২ হাজার হিংসার ঘটনা ঘটেছে এবং ১৬০টি দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে। এমনকি পুলিশ নিষ্ক্রিয় থাকারও অভিযোগ তোলেন তিনি। এর পাল্টা জবাবে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “বিজেপিরও তিন কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। আসলে পশ্চিমবঙ্গকে এই হিংসার সংস্কৃতি থেকে বার করে আনতে হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, বিজেপি সংযত আছে বলেই পরিস্থিতি আয়ত্তে, নইলে ‘জনরোষ’ অন্য রূপ নিতে পারত। রাজ্য রাজনীতির এই উত্তাল আবহে হাইকোর্ট চত্বরের এই ঘটনা যে আগামীদিনে আরও বড় বিতর্কের জন্ম দেবে, তা বলাই বাহুল্য।
