মুম্বইঃ তিনি তাঁর টেস্ট অবসরের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছিলেন ১২ মে। তাঁর সিদ্ধান্তে হতবাক হয়ে গিয়েছিল ক্রিকেট দুনিয়া। কেন তিনি আচমকা টেস্ট থেকে অবসর নিয়েছিলেন, তা নিয়ে জল্পনা এখনও চলছে।
আর তার মধ্যেই আজ বিরাট কোহলির আচমকা টেস্ট অবসর নিয়ে নয়া তথ্য সামনে এসেছে। এপ্রিল মাসের শুরুতেই টেস্ট থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন বিরাট। শুধু সরকারিভাবে তাঁর সিদ্ধান্তটা জানিয়েছিলেন ১২ মে, মুম্বইয়ে মিশন ইংল্যান্ডের লক্ষ্যে ১৮ সদস্যের ভারতীয় দল ঘোষণা করে সাংবাদিক সম্মেলনে হাজির হয়ে এমন চমকপ্রদ তথ্য দিয়েছেন জাতীয় নির্বাচক কমিটির প্রধান অজিত আগরকার। তাঁর কথায়, ‘বিরাট এপ্রিল মাসের শুরুতেই আমাদের জানিয়েছিল টেস্ট থেকে ওর অবসরের ভাবনার কথা। বোর্ড ওর সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েছে।’ ক্রিকেটমহলের দাবি, বিরাটের যা ফিটনেস রয়েছে, অনায়াসে আরও দুই বছর টেস্ট খেলতে পারতেন তিনি। বাস্তবে সেটা হয়নি। কেন? জাতীয় নির্বাচক কমিটির প্রধানের কথায়, ‘মাঠে ব্যাটিং হোক বা ফিল্ডিং, বিরাট যখন যা করেছে নিজের ২০০ শতাংশ উজাড় করে দিয়েছে। ওর হয়তো এখন মনে হয়েছে টেস্ট ক্রিকেটে নতুনভাবে সেরাটা দিয়ে ফেলেছে। খেলা চালিয়ে গেলে নতুনভাবে ওর কিছু দেওয়ার থাকবে না। বিরাটের মতো কিংবদন্তির সিদ্ধান্তকে আমাদের সম্মান জানাতেই হবে।’
গত ডিসেম্বরে স্যর ডন ব্র্যাডম্যানের দেশে বর্ডার-গাভাসকার ট্রফির মাঝেই আচমকা টেস্ট থেকে অবসর নিয়েছিলেন রবিচন্দ্রন অশ্বীন। পরে সেই তালিকায় নাম জুড়েছে রোহিত শর্মা ও কোহলির। ভারতীয় ক্রিকেটে পালাবদলের সূচনা হয়ে গিয়েছে। রোহিত-কোহলি-অশ্বীনদের শূন্যস্থানপূরণ যে সম্ভব নয়, আগরকারও মেনে নিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘রোহিত, বিরাট, অশ্বীনদের মতো ক্রিকেটাররা অবসর নিলে নিশ্চিতভাবেই শূন্যস্থান তৈরি হবে। সহজে এই শূন্যস্থানপূরণ হওয়ার নয়। ওরা তিনজনই ক্রিকেটের বড় নাম, কিংবদন্তিও। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি বিশ্বাস করি কোহলিদের অনুপস্থিতি বাকিদের জন্য বড় সুযোগ।’ সেই সুযোগের অঙ্গ হিসেবেই আট বছর পর জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন ঘটিয়েছেন করুণ নায়ার। শুভমান গিল হয়েছেন নয়া ভারত অধিনায়ক। ঋষভ পন্থ হয়েছেন নয়া টিম ইন্ডিয়ার সহ অধিনায়ক। কেন ঋষভ? জবাবে জাতীয় নির্বাচক কমিটির প্রধান বলছেন, ‘পন্থ দুর্দান্ত ক্রিকেটার। ম্যাচ উইনার। আমরা এমন ক্রিকেটারদেরই দায়িত্ব দিতে চেয়েছি, যাঁরা অনেকদিন ভারতীয় ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।’ আইপিএলে লখনউ সুপার জায়েন্টস দলের অধিনায়ক তথা প্রধান ক্রিকেটার হিসেবে ঋষভ এবার সম্পূর্ণ ব্যর্থ। কিন্তু তারপরও জাতীয় নির্বাচক কমিটির আস্থা প্রমাণ করে দিল, আইপিএলের পারফরমেন্স দিয়ে ঋষভের বিচার হয়নি।
