উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসন বিশ্ব বাণিজ্যে এক নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছে। চিনের তৈরি পণ্যের ওপর চাপানো চড়া মার্কিন শুল্ক ফাঁকি দিতে একটি তথাকথিত ‘শ্যাডো ট্রান্স-শিপমেন্ট নেটওয়ার্ক’ (Shadow Trans-shipment Community) গড়ে তোলার অভিযোগে ভারত, কানাডা, মেক্সিকো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU)-সহ ৪০টিরও বেশি দেশকে চিহ্নিত করেছে হোয়াইট হাউস (White Home)। এই ধরনের বেআইনি পথ বন্ধ করতে এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI প্রযুক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন।
হোয়াইট হাউস প্রকাশিত এক বিস্ফোরক প্রতিবেদনে এই কারচুপির নাম দেওয়া হয়েছে ‘দ্য গ্রেট ট্রান্সশিপমেন্ট স্ক্যাম’ (The Nice Transshipment Rip-off)। এতে মার্কিন বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো অভিযোগ করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চিনের ওপর যে চড়া শুল্ক আরোপ করেছেন, তা এড়াতে চিনা রপ্তানিকারকরা তৃতীয় কোনো দেশকে পথ হিসেবে ব্যবহার করছে। যেসব দেশের ওপর কম মার্কিন শুল্ক ধার্য রয়েছে, চিনা পণ্য প্রথমে সেই দেশগুলোতে পাঠানো হয়। সেখানে সামান্য প্যাকেজিং, নতুন লেবেল লাগানো কিংবা সামান্য রূপান্তর ঘটিয়ে পণ্যগুলোকে আর ‘চিনা’ না দেখিয়ে অন্য দেশের পণ্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে চালান করা হচ্ছে।
ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছে, যেসব দেশ চিনা পণ্য জালিয়াতিতে সহায়তা করবে বা নিজেদের বন্দর ব্যবহার করতে দেবে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ, অতিরিক্ত জরিমানা এবং মার্কিন বাজারে বিশেষ সুবিধা বাতিল করার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এই বেআইনি চালান শনাক্ত করতে মার্কিন কাস্টমস ও সীমান্ত সুরক্ষা সংস্থা এবার ‘ডিটেকটিভ বর্ডার’ (Detective Border) নামক একটি সর্বাধুনিক AI চালিত সিস্টেম চালু করছে। এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত ব্যবস্থাটি শিপমেন্টের হিস্ট্রি, রুট, স্যাটেলাইট ইমেজারি ও কাঁচামালের উৎস বিশ্লেষণ করে আসল উৎপাদক দেশকে শনাক্ত করতে সক্ষম বলে জানা গিয়েছে।

