চ্যাংরাবান্ধা: প্রতি বছর ইদের আগে যেখানে চ্যাংরাবান্ধা সীমান্তে বাংলাদেশ থেকে আসা পর্যটকদের ঢল নামত, সেখানে আজ চিত্রটা সম্পূর্ণ বিপরীত। ২০২৪ সালের আগস্ট মাস থেকে নতুন করে পর্যটন ভিসা চালু না হওয়ায় কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছে সীমান্তের পর্যটন বাণিজ্য (Vacationer visa suspension impacts)। শুধুমাত্র চিকিৎসা, স্টুডেন্ট বা তীর্থ ভিসার দৌলতে নামমাত্র যাতায়াত হলেও, পর্যটন ভিসা বন্ধ থাকায় অর্থনৈতিকভাবে ধুঁকছে এই সীমান্ত অঞ্চল।
চিকিৎসার প্রয়োজনে বাংলাদেশ থেকে আসা নাগরিকরাও পর্যটন ভিসা বন্ধ থাকায় ক্ষোভ জানিয়েছেন। রংপুর থেকে আসা কনক দেবনাথ বলেন, “সাধারণ মানুষ হিসেবে আমরা দুই দেশের মানুষ মিলেমিশে থাকতে ভালোবাসি। ইদ বা যেকোনো ছুটিতেই বাংলাদেশিদের প্রধান গন্তব্য ছিল ভারত। পর্যটন ভিসা দ্রুত চালু করা হোক।” বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসার প্রয়োজনে আসা খোকন সরকারের মতে, বাংলাদেশিদের জন্য ভারত সবথেকে নিরাপদ পর্যটন গন্তব্য। তিনি ভারত সরকারের কাছে অবিলম্বে টুরিস্ট ভিসা পুনর্বহালের জোর দাবি জানিয়েছেন।
পর্যটন ভিসা বন্ধের প্রভাব পড়েছে সীমান্তের স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ওপর:
মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র: রবিউল ইসলাম নামে এক মালিক জানান, এখানে ২২টিরও বেশি মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র ছিল। এখন পর্যটক না থাকায় অনেকেই দোকানের ঝাঁপ খুলতে পারেন না, কেউ কেউ ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন।
গাড়ি চালকদের দুর্দশা: পর্যটকদের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা ছোট গাড়ি চালক ধনেশ্বর রায় ও মহঃ সাইফুলের মতে, আগে ইদের সময় দিনে একাধিক ট্রিপ পাওয়া যেত, এখন সপ্তাহে এক-দুটি ভাড়াই বিলাসিতা। কিস্তি মেটাতে না পেরে অনেকেই গাড়ি বিক্রি করে দিয়েছেন বা ভিন্ন পেশায় চলে গেছেন।
সীমান্তের গাড়ি চালক থেকে ব্যবসায়ী— সকলেরই এখন একটাই প্রত্যাশা, পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে পর্যটন ভিসা ফেরানোর ব্যবস্থা করুক। তাঁদের মতে, পর্যটন ব্যবস্থা স্বাভাবিক হলেই এই অঞ্চলের অর্থনীতি আবারও চাঙ্গা হবে এবং সাধারণ মানুষ খেয়ে-পরে বাঁচতে পারবে।
