Uttar Kanya Assembly | বন্যা মোকাবিলায় উত্তরকন্যায় হাইভোল্টেজ বৈঠক! তৃণমূল বিধায়কদের যোগদান ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা

Uttar Kanya Assembly | বন্যা মোকাবিলায় উত্তরকন্যায় হাইভোল্টেজ বৈঠক! তৃণমূল বিধায়কদের যোগদান ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা

শিক্ষা
Spread the love


রণবীর দেব অধিকারী, রায়গঞ্জ: মঙ্গলবার উত্তরকন্যায় (Uttar Kanya Assembly) রাজ্যের সেচ ও জলপথ বিভাগের উদ্যোগে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকা হয়েছে। উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রীর সভাপতিত্বে আয়োজিত ওই বৈঠকে উত্তরবঙ্গের (North Bengal) আট জেলার সমস্ত সাংসদ ও বিধায়কদের সঙ্গে প্রাক বর্ষাকালীন বন্যা মোকাবিলার প্রস্তুতি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। বৈঠকের দিনক্ষণ ঘোষণার পর থেকেই গৌড়বঙ্গের রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। চর্চার বিষয় হল, উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের সভাপতিত্বে আয়োজিত ওই বৈঠকে তৃণমূলের বিধায়কেরা যোগ দেবেন কি না।

দলীয় সূত্রের খবর, প্রথমদিকে অনেক বিধায়কের মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছিল। তবে পরে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে উত্তর দিনাজপুরের পাঁচ তৃণমূল বিধায়ক বৈঠকে উপস্থিত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রতিবেশী জেলা দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদার তৃণমূল বিধায়করাও ওই বৈঠকে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে সম্মত হয়েছেন। ইটাহারের তৃণমূল বিধায়ক তথা দলের সংখ্যালঘু সেলের রাজ্য সভাপতি মোশারফ হুসেন বলেন, ‘বৈঠকে যাওয়া নিয়ে কেউ কেউ কিঞ্চিৎ দোলাচলের মধ্যে ছিলেন বটে। কিন্তু যেহেতু এটি একটি সরকারি বৈঠক, তাই মানুষের কাজের স্বার্থে আমরা বৈঠকে উপস্থিত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। গৌড়বঙ্গের সব তৃণমূল বিধায়কই যাবেন বলে জানি।’

দলের পরাজয়ের পর উত্তরবঙ্গের তৃণমূল বিধায়কদের একাংশ মানসিক ও রাজনৈতিকভাবে কিছুটা দোলাচলের মধ্যে রয়েছেন বলে দলের অন্দরে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনি বিপর্যয়ের ধাক্কায় গোটা তৃণমূল শিবিরই নানা দিক থেকে চ্যালেঞ্জের মুখে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মনমেজাজ ও পরিবেশ অনুকূল না থাকায় অনেকে তাঁদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করতেও সাতবার ভাবছেন। এই পরিস্থিতিতে শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্যমন্ত্রিত্বে গঠিত সরকারের অধীনস্থ একটি দপ্তরের ডাকা কোনও বৈঠকে অংশগ্রহণ করা উচিত কি না, তা নিয়ে অনেক বিধায়কই প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছিলেন।

অতীতে কেন্দ্রীয় সরকারের ডাকা বিভিন্ন বৈঠকে অনুপস্থিত থাকা এবং কেন্দ্র-রাজ্য মতপার্থক্যের জেরে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কেন্দ্রের একাধিকবার সংঘাতের নজির রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বৈঠকে যোগদান করা হবে কি না, তা নিয়ে তৃণমূল বিধায়কদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনা শুরু হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত গৌড়বঙ্গের তৃণমূল বিধায়করা বৈঠকে অংশগ্রহণের ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। ইটাহারের বিধায়ক মোশারফ জানান, দলের উত্তর দিনাজপুর জেলা সভাপতি ও পাশের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হরিরামপুরের বর্ষীয়ান বিধায়ক বিপ্লব মিত্রের সঙ্গে একপ্রস্থ ফোনালাপের পর দুজনেই উত্তরকন্যায় হাজির থাকার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। ইটাহার যেহেতু বন্যাপ্রবণ এলাকা তাই এখানকার বন্যা নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা এবং কিছু নদীপাড় বাঁধানোর প্রস্তাব বৈঠকে রাখবেন বলেও জানিয়েছেন মোশারফ। চাকুলিয়ার তৃণমূল বিধায়ক মিনহাজুল আরফিন আজাদ বলেন, ‘ওই বৈঠকে যেতে হবে বলে আমাকে দলের জেলা সভাপতি ফোন করে জানিয়েছেন। আমি বৈঠকে হাজির তো থাকবই, পাশাপাশি চাকুলিয়া সুধানি নদীর ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানাব।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *