বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী অথবা রোহিঙ্গা সন্দেহে ধৃতদের রাখার জন্য উত্তরের বিভিন্ন জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির জন্য জায়গার খোঁজ শুরু হয়েছে। নবান্নের নির্দেশ অনুসারে, সন্দেহভাজনদের আটক করে এসব কেন্দ্রে ৩০ দিন রাখা যাবে। উত্তরবঙ্গের মধ্যে সর্বপ্রথম মালদহ জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ চালু হয়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ডিটেক্ট, ডিলিট ও ডিপোর্ট নীতি রাজ্যের নয়া সরকারের।
এই বিষয়ে আরও খবর
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, হোল্ডিং সেন্টার নতুন কিছু নয়। ২০২৫ সালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিদেশ মন্ত্রক থেকে রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী সম্পর্কে যে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল সেখানেই হোল্ডিং সেন্টারের কথা বলা ছিল। রাজ্যে এতদিন সেটা মানা হয়নি। পালা বদলের পর বর্তমান রাজ্য সরকার সেটা কার্যকর করছে। ওই হোল্ডিং সেন্টার কোথায় খোলা হবে সেজন্য জায়গা দেখা শুরু হয়েছে। দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলাশাসক সুভ্রমণিয়াম পি জানান, হোল্ডিং সেন্টার খোলার জন্য জায়গার খোঁজ চলছে। প্রশাসনের এক কর্তার কথায়, নবান্নের নির্দেশ অনুসারে সন্দেহভাজনদের আটক করে হোল্ডিং সেন্টারে ৩০ দিন রাখা যাবে। এর আগেই যারা ধরা পড়েছিলেন, বন্দি ছিলেন, তাঁদেরও সেখানে রাখা যাবে। উত্তরবঙ্গের মধ্যে সর্বপ্রথম মালদহ জেলায় হোল্ডিং সেন্টার চালু হয়েছে।
শিলিগুড়ি করিডোরের স্পর্শকাতর ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ডাবগ্রাম ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক সংলগ্ন এলাকা অথবা উত্তরকন্যার কাছাকাছি উপযুক্ত জায়গা খোঁজা হচ্ছে। জলপাইগুড়ি সদরের সাউথ বেরুবাড়িতে বহু দিন ধরে একটি আটক শিবির রয়েছে। ছিটমহলেও অনেক দিন ধরে রয়েছে কেন্দ্র।
জেলার ইংলিশ বাজার শহরের চন্দন পার্ক এলাকায় এটি তৈরি করা হয়েছে এবং সেখানে ধৃত সন্দেহভাজনদের রাখা হচ্ছে। কোচবিহার ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাপ্রশাসনের তরফে নির্দেশিকা আসার পর বিভিন্ন প্রান্তে সুরক্ষিত সরকারি ভবন, যেমন, পরিত্যক্ত স্কুল বাড়ি, সমাজকল্যাণমূলক দপ্তর অথবা সেফ হোমের পরিকাঠামো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শিলিগুড়ি করিডোরের স্পর্শকাতর ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ডাবগ্রাম ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক সংলগ্ন এলাকা অথবা উত্তরকন্যার কাছাকাছি উপযুক্ত জায়গা খোঁজা হচ্ছে। জলপাইগুড়ি সদরের সাউথ বেরুবাড়িতে বহু দিন ধরে একটি আটক শিবির রয়েছে। ছিটমহলেও অনেক দিন ধরে রয়েছে কেন্দ্র। কোচবিহার জেলা প্রশাসনের তরফে এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
আলিপুরদুয়ার জেলাতেও হোল্ডিং সেন্টার খোলার জন্য জায়গার খোঁজ চলছে। উত্তর দিনাজপুর জেলাতেও হোল্ডিং সেন্টার তৈরির জন্য জায়গার খোঁজ চলছে। প্রশাসনিক সূত্রে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, রায়গঞ্জ এবং ইসলামপুর মহকুমায় প্রথম পর্বে দু’টি হোল্ডিং সেন্টার তৈরি হবে। রায়গঞ্জের পুলিশ সুপার সোনাওয়ানে কুলদীপ সুরেশ জানান, হোল্ডিং সেন্টারের নির্দিষ্ট জায়াগা চিহ্নিত করতে মহকুমাশাসকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। অন্যদিকে, রায়গঞ্জ মহকুমাশাসক তন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, রায়গঞ্জে হোল্ডিং সেন্টারের উপযুক্ত জমি চিহ্নিত করার কাজ চলছে। দিন চারেকের মধ্যে জায়গা চূড়ান্ত হয়ে যাবে। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশি অথবা রোহিঙ্গা সন্দেহে ধৃত, অনুপ্রবেশকারীদের রাখার জন্য ২০০৮-২০০৯ সালে অসমে প্রথম শিবির গড়ে উঠেছিল। এবার হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে।
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
