উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনের ঠিক ১২ দিনের মাথায় প্রথম দফার বৃষ্টিতেই ক্ষতিগ্রস্ত হল ৪,২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত লখনউ-কানপুর গ্রিনফিল্ড এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (Lucknow-Kanpur Greenfield Nationwide Elevated Expressway)। উন্মাদনা ফিকে করে দিয়ে উন্মুক্ত রাস্তার একাংশ জুড়ে বড় ফাটল ধরায় নির্মাণকাজের মান ও নজরদারি নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা।
তৈরি হওয়ার দু’সপ্তাহও পূর্ণ হয়নি। তার আগেই কাঠগোড়ায় লখনউ-কানপুর গ্রিনফিল্ড ন্যাশনাল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজের মান। গত ১৩ জুলাই উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়কড়ির হাত ধরে অত্যন্ত সমারোহে উদ্বোধন করা হয়েছিল ৪,২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই মেগা প্রকল্পের। কিন্তু প্রথম দফার বর্ষা আসতেই প্রকাশ্যে চলে এল প্রশাসনিক ত্রুটি ও দুর্নীতির চিত্র।
গত ২৫ জুলাই লখনউ সংলগ্ন উন্নাও জেলার কোহারি গ্রামের কাছে এক্সপ্রেসওয়ের একটি বড় অংশ জুড়ে বড় ফাটল ধরার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। সমাজবাদী পার্টির (SP) নেতা মধুসূদন যাদব একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করার পরেই এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, এক্সপ্রেসওয়ের প্রায় ৫ থেকে ৭ মিটার অংশ জুড়ে বড় ফাটল ধরেছে এবং রাস্তার একাংশ নিচে বসে গেছে।
ঘটনাস্থল থেকে ভিডিও প্রকাশ করে এসপি নেতা মধুসূদন যাদব বলেন, “আমি লখনউ-কানপুর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে যাওয়ার সময় কোহারি এলাকায় পৌঁছতেই দেখি বৃষ্টির জেরে রাস্তা কীভাবে ফেটে চৌচির হয়ে গেছে।”
প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের এই প্রকল্প নিয়ে সোচ্চার হয়ে বিরোধী শিবির একে সরাসরি ‘দুর্নীতি’ বলে তোপ দেগেছে। তাদের অভিযোগ, জনগণের কষ্টের হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ হলেও কাজের মান যে কতটা নিম্নমানের ছিল, তা এই ঘটনাই প্রমাণ করে দিয়েছে। এর ফলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষ।
ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দেওয়ার পরেই টনক নড়ে প্রশাসনের। তড়িঘড়ি শুরু হয় ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের কাজ। যদিও এই বিষয়ে শুরুতে জাতীয় মহাসড়ক কর্তৃপক্ষ (NHAI)-এর তরফ থেকে কোনো স্পষ্ট উত্তর দেওয়া হয়নি, তবে নজিরবিহীন এই ঘটনায় প্রকল্পটির মনিটরিং মেকানিজম বা তদারকি ব্যবস্থার ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন ঝুলে রয়েছে।
উদ্বোধনের এত কম সময়ের মধ্যে একটি অত্যাধুনিক হাইওয়েতে এমন ধস নামায় প্রমাদ গুনছেন নিত্যযাত্রীরা। প্রশাসনিক স্তরে দ্রুত প্যাচওয়ার্ক ও মেরামতির কাজ শুরু হলেও, সাধারণ মানুষের মনে নিরাপত্তার প্রশ্নটি থেকেই যাচ্ছে।

