করণদীঘি: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন এখনও কয়েকমাস বাকি, কিন্তু তার আগেই উত্তর দিনাজপুর জেলার ৩২ নম্বর করণদীঘি (Karandighi) বিধানসভা কেন্দ্রে শুরু হয়ে গেল পোস্টার যুদ্ধ। বিধায়ক গৌতম পালের (TMC MLA Goutam Paul) বিরুদ্ধে ‘বহিরাগত’ তকমা দিয়ে এবং ‘ভূমিপুত্র’ প্রার্থীর দাবিতে রণংদেহি মেজাজে ধরা দিলেন দলেরই একাংশ। শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি বিধায়কের জন্মদিনেই তাঁর নামাঙ্কিত এই বিরূপ পোস্টার ও ব্যানারকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন তুঙ্গে।
এলাকাবাসীর মনে পড়ছে ২০২১ সালের কথা। সেবার তৎকালীন বিধায়ক মনোদেব সিনহার বিরুদ্ধেও “মনোদেব হটাও, করণদীঘি বাঁচাও” স্লোগান উঠেছিল। শেষ পর্যন্ত দল প্রার্থী বদল করে টিকিট দিয়েছিল গৌতম পালকে। এবার গৌতম পালের বিরুদ্ধেই একই সুর শোনা যাচ্ছে। ব্যানারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee), অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও জেলা নেতৃত্বের ছবি থাকলেও স্পষ্ট ভাষায় লেখা হয়েছে— “আমাদের রায় পরিবর্তন চাই, গৌতম পাল হটাও করণদীঘি বাঁচাও, বহিরাগত নয় ভূমিপুত্র চাই।”
জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি শামসুল হকের অনুগামী বলে পরিচিত সেফাত আলি ও মিজান আলিদের প্রকাশ্যে এই ব্যানার লাগাতে দেখা যায়। মিজানুর রহমান বলেন, “আমরা দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে বার্তা দিতে চাই যে, বাইরের কাউকে নয়, করণদীঘির কোনো বিশিষ্ট সমাজসেবী বা ভূমিপুত্রকেই প্রার্থী করা হোক।” পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য সেফাত আলির কথায়, “আমরা স্বচ্ছ ভাবমূর্তির ভূমিপুত্রকে চাই, এই দাবিই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দিতে চাই।”
শামসুল হক ও বিধায়ক গৌতম পালের বৈরিতা জেলা রাজনীতিতে সর্বজনবিদিত। এদিনের ব্যানার প্রসঙ্গে শামসুল হক বলেন, “শুনেছি ভূমিপুত্র প্রার্থীর দাবিতে পোস্টার পড়েছে। কারা লাগিয়েছে জানি না, তবে তাদের দাবি সঠিক।” ওয়াকিবহাল মহলের মতে, শামসুল নিজেও এবার প্রার্থী পদের জোরালো দাবিদার।
অন্যদিকে, বিধায়ক অনুগামী তথা যুব তৃণমূল সভাপতি ইমাম হোসেন বিরোধীদের কড়া সমালোচনা করে বলেন, “গৌতম পাল করণদীঘির নবরূপকার। সাধারণ মানুষ উন্নয়নের কাজ দেখেই ভোট দেবেন। যাঁরা পোস্টার দিচ্ছেন, তাঁরা আসলে বিজেপির দালাল।”
তৃণমূলের এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব দেখে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি। বিজেপি নেতা মৃণাল ঘোষ রসিকতা করে বলেন, “বিধায়কের জন্মদিনে ওঁর দলের লোকেরাই পোস্টার দিয়ে ওনাকে বিশেষ শুভেচ্ছা জানালেন।”নির্বাচনের আগে তৃণমূলের এই গৃহযুদ্ধ জেলা রাজনীতিতে করণদীঘি কেন্দ্রকে বাড়তি গুরুত্বের কেন্দ্রে নিয়ে এল।
