উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: দিল্লির রাজনৈতিক মহলে ফের জোরালো জল্পনা। এনডিএ (NDA)-র বৈঠকে আমন্ত্রণ পাওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক কেরিয়ার ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন গুঞ্জন শুরু হয়েছে। আর ঠিক তার আগেই মঙ্গলবার দুপুরে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (CM Suvendu Adhikari) সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে চলেছেন এনসিপিআই-এর (NCPI MPs Assembly) সাংসদরা। দিল্লির বঙ্গভবনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বলে জানিয়েছেন সাংসদ শতাব্দী রায়। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তবে কি শেষ পর্যন্ত বিজেপিতেই (BJP) মিশে যেতে চলেছে এনসিপিআই? আগামীকালের এই হাই-ভোল্টেজ বৈঠকের ফলাফলের উপরেই এখন সব নজর আটকে রয়েছে।
সাংসদ শতাব্দী রায় স্পষ্ট জানান, মঙ্গলবার দুপুর ১টার সময় বঙ্গভবনে একটি বিশেষ বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দলের সমস্ত সাংসদদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। সাংসদদের ব্যক্তিগত বা দলগত কোনো মতামত বা অভিযোগ থাকলে তা খোলসা করে শোনার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। শতাব্দীর কথায়, “যা এতদিন বলা যেত না, সেগুলো হয়তো বলতে পারব।” এছাড়া দলবদলের এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই করা হয়েছে বলে জোরালো দাবি করেছেন তিনি। তাঁর মতে, আইনি জটিলতা কাটাতে খুব শীঘ্রই নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে একটি কাগজ আসবে এবং সর্বশেষে স্পিকার এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। সেই অনুমোদনের অপেক্ষাতেই এখন সকলে দিন গুনছেন।
উল্লেখ্য, ১৯ জন সাংসদকে নিয়ে দিল্লিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে নিজেদের দলবদল ও স্বীকৃতির আবেদন জানিয়েছিল সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির। তারা নিজেদের ‘এনসিপিআই’ সাংসদ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি লোকসভায় এনডিএ-র শরিক দল হিসেবে বসার আসন দাবি করেছিল। তাদের এই পদক্ষেপে এনডিএ শিবির নতুন শক্তি পেয়েছে, কারণ এই নতুন শরিক দলের সাংসদ সংখ্যা অন্য যেকোনো শরিক দলের চেয়ে অনেক বেশি। গত ১৯ জুলাই বাদল অধিবেশন শুরুর ঠিক আগের দিন সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু এনসিপিআই-কে সর্বদলীয় বৈঠকে যোগ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। সেই অনুযায়ী তারা সভাতেও যোগ দেয়। এবার মঙ্গলবারের এই বৈঠকে তাঁদের উপস্থিতি এবং মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, এনসিপিআই স্বতন্ত্র শরিক হিসেবে টিকে থাকবে নাকি পাকাপাকিভাবে বিজেপিতে বিলীন হয়ে যাবে।

