সুস্মিতা গঙ্গোপাধ্যায়, আটলান্টা: আমেরিকার অন্যান্য শহরের মতো আটলান্টা খুব একটা বিশাল নয়। জনসংখ্যার নিরিখে ৪০ নম্বরে থাকা এই শহরটাই গত কয়েকদিন ধরে ফুটবল জ্বরে কাঁপছে। ডাউনটাউন থেকে মিডটাউন- সর্বত্রই এখন বিদেশি অতিথিদের ভিড়। সুপার মার্কেটগুলোতে বিক্রিবাটাও একধাক্কায় কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। এই ভিড়ের সিংহভাগই আর্জেন্টিনার সমর্থক, তবে সংখ্যায় কম হলেও ইংরেজরাও পিছিয়ে নেই। সাতসকালেই তারা কেউ স্টেডিয়াম, তো কেউ ফ্যান পার্কের দিকে পা বাড়িয়েছেন। কিন্তু এত মানুষের ভিড়েও ২২ বছরের এক ইংরেজ তরুণী সারাটা দিন কাটালেন চরম দ্বিধায়। ইংল্যান্ডের মেয়ে কেলেসি বোয়েরের গায়ে যে আর্জেন্টিনার (Argentina) জার্সি!
অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায় পর্যন্ত ইংল্যান্ডের হয়ে ফুটবল খেলেছেন তিনি। চিরকাল নিজের দেশকেই সমর্থন করে এসেছেন। কিন্তু আজ তাঁর মন নীল-সাদা শিবিরে। কারণটা হলেন মার্কোস সেনেসি। আর্জেন্টিনার এই ডিফেন্ডারেরই বান্ধবী কেলসি-রোজ বাওয়ার্স। ডেভিড বেকহ্যাম যা পেরেছেন, সেটা কেলসির পক্ষে সম্ভব হয়নি। দেশের আবেগকে সরিয়ে রেখে তিনি শেষ পর্যন্ত প্রেমিকের পাশেই দাঁড়িয়েছেন। লিয়ান্দ্রো বেলার্দির চোট পাওয়ায় এবারই প্রথম বিশ্বকাপের দলে ডাক পেয়েছেন সেনেসি। জর্ডনের বিরুদ্ধেই তাঁর অভিষেক হয়েছে।
তবে সেনেসির চেয়েও আজ বেশি চাপে ছিলেন কেলসি নিজে। তাঁর কথায়, ‘আমি ইংল্যান্ডের জার্সি গায়ে বড় হয়েছি, দেশের হয়ে খেলার সম্মানও পেয়েছি। ওই আবেগ থেকে বেরিয়ে আসা সত্যিই কঠিন। এত বছর পর ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে ওঠায় আমি ভীষণ গর্বিত।’ সেনেসি যখন এএফসি বোর্নমাউথে খেলতেন, তখনই দুজনের পরিচয়। কেলসি অকপটে স্বীকার করছেন, ‘যাঁকে ভালোবাসো, সে যখন এত বড় একটা মঞ্চে নামে, তখন তুমি চাইবেই সে জিতুক। তাই ব্যক্তিগতভাবে আমি মার্কোসকেই সমর্থন করছি। এটাই হয়তো একমাত্র ম্যাচ, যেখানে আমি দুই দলের জন্যই মানসিক টানাপোড়েনে ভুগছি। ফল যাই হোক, আমি ইতিবাচক থাকতে চাই।’
ম্যাচের আগে নিজেকে হালকা রাখার চেষ্টা করছেন ইংল্যান্ডের এই মহিলা ফুটবলার। বোর্নমাউথের (Bournemouth) সঙ্গে চুক্তি শেষ হওয়ায় তিনি এখন নতুন ক্লাবের সন্ধানে, তবে আপাতত তাঁর পুরো মনোযোগ বিশ্বকাপে। মজার ব্যাপার, ইংরেজ হলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় আর্জেন্টাইন সমর্থকদের কাছে তিনি ভীষণ জনপ্রিয়। সেনেসির সঙ্গে কাটানো মুহূর্তের ছবি পোস্ট করে তাঁর ফলোয়ার সংখ্যাও হু হু করে বাড়ছে।
এদিকে, যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় আটলান্টায় ঝাঁকে ঝাঁকে নীল-সাদা সমর্থক এসে পৌঁছেছেন। প্রতিদিন প্রায় ৪০ হাজার আর্জেন্টিনীয় শহরে ঢুকছেন। ৬৮,২৩৯ আসনের স্টেডিয়ামের বেশিরভাগটাই তাই নীল-সাদা। ফ্যান পার্কগুলোর ছবিও একইরকম। শেষ পর্যন্ত ট্রফি যার হাতেই উঠুক না কেন, আমেরিকার এই শহরটা আপাতত আর্জেন্টিনীয়দেরই দখলে।

