উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: রাজ্য রাজনীতিতে এখন টানটান উত্তেজনা। আসন্ন উপনির্বাচনকে (West Bengal Bypolls) কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের ফাটল এবার একেবারে প্রকাশ্যে। নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর—এই দুই হাইভোল্টেজ কেন্দ্রে সোমবার সন্ধ্যায় নিজেদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দিল দলের ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির (TMC faction bypoll candidates)। এক সাংবাদিক বৈঠকে জানানো হয়, নন্দীগ্রামে ঘাসফুল শিবিরের এই অংশের হয়ে লড়বেন এহেতাশ মুল হক এবং রেজিনগরে ভোটের ময়দানে নামছেন সফিউজ্জামান শেখ। উল্লেখ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট শিবির আগেই এই দুই কেন্দ্রে নিজেদের ঘুঁটি সাজিয়ে নিয়েছে। তাঁদের তরফ থেকে নন্দীগ্রামে (Nandigram By-election) সঞ্চিতা প্রধান দে এবং রেজিনগরে রবিউল আলম চৌধুরীকে প্রার্থী করা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলে বেশ কিছুদিন ধরেই একটি জল্পনা ভাসছিল যে, নন্দীগ্রাম থেকে সম্ভবত স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী হতে পারেন। ঋতপন্থী নেতারা ইতিপূর্বেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, মমতা যদি নিজে প্রার্থী হন, তবে ওই নির্দিষ্ট কেন্দ্রে তাঁরা কাউকেই দাঁড় করাবেন না। কিন্তু কালীঘাট শিবির শেষমেশ তাঁকে প্রার্থী না করায় পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়। নিজস্ব রাজনৈতিক জমি শক্ত করতেই এরপর ময়দানে নেমে পড়ে ঋতব্রত শিবির। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই উপনির্বাচনে রাজ্যের শাসক দল বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূলের লড়াই যতটা না তীব্র হবে, তার চেয়ে বহুগুণ বেশি উত্তাপ ছড়াবে ঘাসফুলের অন্দরের এই পারস্পরিক দড়ি টানাটানি।
বর্তমানে দলের আসল রাশ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে এই অন্তর্দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছেছে। দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা কোটি কোটি টাকার মালিকানা কার, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই আদালতে জোরালো আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। থেমে নেই দলীয় প্রতীক ‘জোড়া ফুল’-এর অধিকার নিয়ে স্নায়ুযুদ্ধও। আসল তৃণমূল হিসেবে স্বীকৃতি পেতে নির্বাচন কমিশনের দরজায় কড়া নেড়েছে দুই পক্ষই, জমা পড়েছে দুই শিবিরের তরফ থেকেই নিজেদের স্বপক্ষে যাবতীয় নথিপত্র।
সোমবার তৃণমূল ভবনে আয়োজিত ওই সাংবাদিক সম্মেলনে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেন, তাঁদের শিবিরই হল আসল তৃণমূল কংগ্রেস। আর সেই অধিকারের ভিত্তিতেই আসন্ন উপনির্বাচনে চেনা জোড়া ফুল প্রতীকেই লড়তে চলেছেন তাঁরা। আগামী ১৬ তারিখ এই প্রতীক সংক্রান্ত বিষয়ে শুনানির দিনক্ষণ ধার্য করেছে নির্বাচন কমিশন। অন্যদিকে, মনোনয়ন প্রত্যাহারের একেবারে শেষ দিন হল ১৮ তারিখ। ঋতব্রত শিবির স্পষ্ট জানিয়েছে, কমিশনের তরফ থেকে চূড়ান্ত কোনো নির্দেশ না আসা পর্যন্ত তাঁরা নিজেদের প্রচারের কাজে জোড়া ফুল প্রতীকই ব্যবহার করবেন। ফলস্বরূপ, উপনির্বাচনের ময়দানে একই প্রতীক নিয়ে যুযুধান দুই শিবিরের সমান্তরাল প্রচার চালানোর যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা বঙ্গ রাজনীতিতে নজিরবিহীন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

