Yoga Gold Medal | আন্তর্জাতিক যোগাসন প্রতিযোগিতায় সোনা জয় বার্নপুরের পম্পা পালের, সংসার সামলে বিশ্বমঞ্চে বাজিমাত বাংলার গৃহবধূর

শিক্ষা
Spread the love


বার্নপুর: থাইল্যান্ডের পাটায়ায় (Pattaya) সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক যোগাসন প্রতিযোগিতায় ভারত ও পশ্চিমবঙ্গের হয়ে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করলেন আসানসোলের বার্নপুর বৈষ্ণববাঁধের গৃহবধূ পম্পা পাল (Pampa Pal)। ৪২ থেকে ৫০ বছর বয়সী বিভাগে স্বর্ণপদক জয় (Yoga Gold Medal) করে তিনি আন্তর্জাতিক স্তরে দেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন। আন্তর্জাতিক এই ক্রীড়া আসরে বাংলার প্রতিযোগীদের সামগ্রিক পারফরম্যান্সও ছিল অত্যন্ত উজ্জ্বল।

পাটায়ার এই আন্তর্জাতিক যোগাসন প্রতিযোগিতায় ৯টি দেশ অংশ নিয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন মোট ৪৯ জন প্রতিযোগী। তাঁদের মধ্যে ১৯টি স্বর্ণ, ১৭টি রৌপ্য এবং ৯টি ব্রোঞ্জ পদক সহ মোট ৪৫টি পদক জিতে নিয়েছেন বাংলার প্রতিযোগীরা। তিনটি আবশ্যিক এবং দুটি ঐচ্ছিক আসন ছিল এই প্রতিযোগিতায়। ঐচ্ছিক আসনগুলোর মধ্যে ছিল হাতের-ভারসাম্য এবং পায়ের-ভারসাম্য। আবশ্যিক আসনগুলো আয়োজকদের পক্ষ থেকে আগে থেকেই ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই অনুযায়ী নম্বর দেওয়া হয়।

পারিবারিক দায়িত্ব ও সংগ্রামের মাঝেই এই ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছেন পম্পা দেবী। তিনি একজন গৃহবধূ এবং এক সন্তানের জননী। স্বামী একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করেন। সংসারের খরচ সামলাতে অনলাইনে টিউশন ও যোগব্যায়াম শেখান তিনি। প্রতিদিন ভোর ৪টায় ঘুম থেকে উঠে গৃহস্থালির কাজ সেরে সকাল সাড়ে ৬টা থেকে সাড়ে ৯টা এবং বিকেলে দফায় দফায় যোগব্যায়াম শেখানো ও নিজের চর্চা চালিয়ে যান তিনি।

সাফল্যের আনন্দের মাঝেই উঠে এসেছে দেশীয় ব্যবস্থার প্রতি একরাশ ক্ষোভ ও আক্ষেপ। পম্পা পালের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সুযোগ মিললেও জাতীয় স্তরে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নানা বাধার মুখে পড়তে হয় তাঁদের। দেহভঙ্গি নিখুঁত নয় কিংবা পায়ের পাতা ঠিক নেই—এমন নানা অজুহাতে তাঁদের জেলা বা রাজ্য স্তর থেকেই আটকে দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘খেলো ইন্ডিয়া’ স্লোগানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন জানিয়ে বলেন,   “দেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন ‘খেলো ইন্ডিয়া খেলো’। কিন্তু সরকার আমাদের সাহায্য করছে না। জেলা পর্যায় পাশ করার পর আমরা রাজ্য পর্যায়েই আটকে যাই। আমার মতো আরও অনেক প্রতিভাবান আছে যারা রাজ্য পর্যায়েই আটকে যায়। আমি চাই সরকার বিষয়টি সঠিকভাবে মূল্যায়ন করুক। সরকার সবরকম সুবিধা দিয়ে আমাদের জাতীয় পর্যায়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিক। তাহলে, আরও অনেক বেশি নাম উজ্জ্বল হবে রাজ্য ও দেশের।”



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *