উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ একটি যুগের অবসান ঘটল। ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে চিরতরে বিদায় জানালেন। ২০০৫ সালে আর্জেন্টিনার জার্সিতে যাঁর পথচলা শুরু হয়েছিল, ২০৭টি ম্যাচ এবং বহু রূপকথার অধ্যায় পেরিয়ে সেই রক্তমাংসের জাদুকর অবশেষে থামলেন। কাতার বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি জয় থেকে শুরু করে দুটি কোপা আমেরিকা—আলবিসেলেস্তেদের জার্সিতে মুকুটে একটার পর একটা অমূল্য রত্ন যোগ করার পর অবশেষে থামল তাঁর ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক কেরিয়ার।
অবসরের ঘোষণা করে এক আবেগঘন বার্তায় ৩৯ বছর বয়সি মেসি লিখেছেন, “এটি এমন এক সিদ্ধান্ত যা আমার বুক চিরে দিয়েছে—এবং আজও গভীরে ক্ষত তৈরি করে, তবে আমি বুঝি যে এবার সময় এসেছে। আমি সবসময় নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছি—শুধু এই শেষ কয়েকটা বছর নয়, যখন আমরা সবকিছু জিতেছিলাম, তার আগেও; এই জার্সির জন্য আমি সর্বদা লড়াই করেছি, মাঠে সবকিছুর সঁপে দিয়েছি, যাতে আপনাদের মুখে হাসি ফোটাতে পারি এবং ফুটবল দিয়ে প্রতিটি আর্জেন্টিনীয়কে গর্বিত করতে পারি।”
গত জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটিই যে দেশের জার্সিতে তাঁর জীবনের শেষ ম্যাচ হয়ে থাকবে, তা আগেই অনুমান করা গিয়েছিল। ফাইনালে স্পেনের বিরুদ্ধে চরম লড়াইয়ের পর হারের ক্ষত এবং শারীরিক সীমানার কথা তুলে ধরে মেসি জানিয়েছিলেন, অতিরিক্ত সময়ে তাঁর পা আর এক ফোঁটাও এগোতে পারছিল না। নিজের শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তির কথা স্বীকার করে তিনি লেখেন, “এই সময়ে আমি আমার শারীরিক সীমার বাইরে গিয়েও চেষ্টা করেছি, কিন্তু পারিনি।”
তবে এই অবসরের নেপথ্যে রয়েছে এক গভীর ব্যক্তিগত শোকও। গত মাসে তাঁর বাবা তথা আজীবনের পথপ্রদর্শক জর্জে মেসির প্রয়াণ তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছিল। মূলত বাবার মৃত্যুর পরই তিনি নিশ্চিত হয়ে যান যে, আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর সঠিক সময় এটাই। মূলত বিশ্বকাপের ফাইনালের ঠিক পরেই গত ২১ জুলাই তিনি অবসরের এই চিঠিটি লিখে রেখেছিলেন।
বিদায়বেলায় নতুন প্রজন্মের ওপর আস্থা রেখে এলএম টেন যোগ করেছেন, “সময় ফুরিয়ে আসছে, অধ্যায়গুলো শেষ হয়ে আসে, আর এটি এমন এক অধ্যায় যা আমাকে ভীষণভাবে ব্যথিত করছে। আমি জাতীয় দলের অংশ হতে ভালোবেসেছি, ভালোবাসি এবং চিরকাল ভালোবেসে যাব। আমি আমার সমস্তটা দিয়ে দিয়েছি; দেওয়ার মতো আর কিছু অবশিষ্ট নেই। তাছাড়া, এমন কিছু দারুণ তরুণ ফুটবলার উঠে আসছে, যারা এখানে থাকার যোগ্য।”
২০০৫ থেকে ২০২৬—দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সবুজ গালিচায় জাদুকরি ফুটবলে বিশ্বকে মাতিয়ে রাখা এক বরপুত্র বুঁদ করে রেখেছিল কোটি কোটি অনুগামীদের। তাঁর এই বিদায়ে স্তব্ধ বিশ্ব ক্রীড়াদুনিয়া। ট্রফির চকচকে আলো থেকে শুরু করে ফাইনালের চোখের জল—সব মিলিয়ে লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনার সম্পর্ক এক অমর কাব্যের মতো চিরকাল গেঁথে থাকবে প্রতিটি ফুটবলপ্রেমীর হৃদয়ে।

