উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে জেতা ম্যাচ হাতছাড়া করে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (WTC) ফাইনালে ওঠার সমীকরণ কঠিন করে ফেলেছে ভারতীয় ক্রিকেট দল। মাঠের এই ধাক্কার মাঝেই এবার মাঠের বাইরেও বড়সড় বিপাকে ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (BCCI)। জাতীয় দলের দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলির জন্য নতুন টাইটেল স্পনসর (Title Sponsor) খুঁজে পেতে কালঘাম ছুটছে বোর্ড কর্তাদের। দরপত্র বা বিড জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা দু’সপ্তাহের বেশি আগে পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত নতুন কোনও স্পনসরের নাম চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি।
বিসিসিআই সূত্রের খবর, আইডিএফসি ফার্স্ট ব্যাঙ্কের সঙ্গে তিন বছরের চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের অগাস্টে শেষ হয়েছে। এরপরই নতুন স্পনসরের সন্ধানে ই-টেন্ডার আহ্বান করে বোর্ড। নিয়ম অনুযায়ী ১৩ অগাস্ট ছিল আবেদন জানানোর শেষ দিন। তবে বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, প্রথম দফায় নির্ধারিত বেস প্রাইসে কোনও সংস্থাই স্পনসরশিপ নিতে আগ্রহ দেখায়নি। মূলত প্রতিটি ম্যাচের জন্য বেস প্রাইস বা ন্যূনতম মূল্য ১৫.৫ শতাংশ বাড়িয়ে প্রতি ম্যাচে ৪.৮৫ কোটি টাকা ধার্য করার কারণেই পিছিয়ে এসেছে কর্পোরেট সংস্থাগুলি।
বর্তমানে বিসিসিআই সরাসরি কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় সংস্থার সঙ্গে টেবিলে বসে আলোচনা চালাচ্ছে। দৌড়ে রয়েছে গুগল জেমিনি (Google Gemini), এসবিআই লাইফ, স্পিনি এবং বিদায়ী স্পনসর আইডিএফসি ফার্স্ট ব্যাঙ্ক নিজেই। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা এখনও জানানো হয়নি।
এদিকে স্পনসর পাওয়ার পথ বিসিসিআই নিজেই খানিকটা কঠিন করে তুলেছে কঠোর শর্তাবলীর কারণে। বোর্ডের বর্তমান প্রধান স্পনসর যেমন অ্যাপোলো টায়ার্স, এশিয়ান পেইন্টস এবং অ্যাডিশাসের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে নির্দিষ্ট কয়েকটি বাণিজ্যিক খাতকে বিডিং থেকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী— টায়ার, পেইন্ট, স্পোর্টস অ্যাপারেল, পারফরম্যান্স ওয়্যার এবং খেলার সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি নতুন চুক্তির জন্য আবেদন করতে পারবে না।
ফলস্বরূপ, এমআরএফ, সিয়েট, বার্জার পেইন্টস, জেএসডব্লিউ পেইন্টস, নাইকি, পুমা বা ডেকাথলনের মতো বড় বড় বহুজাতিক ব্র্যান্ডের দরজা শুরুতেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সীমিত বিকল্প হাতে নিয়ে এখন বোর্ড শেষ পর্যন্ত কার সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে, সেদিকেই তাকিয়ে ক্রীড়ামহল।

