Uploaded By: Sushmita Ghosh
গৌতম দাস, গাজোল: আপাতত ৪ মে কবে আসবে, তারই দিন গুনছেন রবীন্দ্রনাথ, নিখিলরা। কারণ, তারপরই তাঁরা সরকারি সাহায্য পাবেন। নির্বাচনি আচরণবিধি জারি রয়েছে যে! রবিবার কালবৈশাখীতে মাথার ওপরের ছাদ উড়ে গিয়েছে চাকনগর এবং পান্ডুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের কয়েকটি বাড়ির। তারপর সরকারি সাহায্য বলতে মিলেছে কেবলমাত্র ত্রিপল! এই পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির একটাই প্রশ্ন, কেন তাঁরা সরকারি সাহায্য (Storm Reduction Delay) পাবেন না? এতগুলো দিন তাঁদের অপেক্ষাই বা করতে হবে কেন? মানুষের জন্য ভোট, নাকি ভোটের জন্য মানুষ?
প্রকৃতির রুদ্ররোষে সবকিছু হারিয়ে খোলা আকাশের নীচে দাঁড়িয়ে চাকনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের রবীন্দ্রনাথ বালা, নিখিল সরকার, সুবীর সরকার, পরিমল বিশ্বাসরা। রবীন্দ্রনাথের বাড়ির অ্যাসবেস্টসের ছাউনি উড়ে গিয়েছে। নষ্ট হয়ে গিয়েছে ঘরের মধ্যে থাকা টিভি, কাগজপত্র, জামাকাপড় সহ প্রায় সমস্ত কিছুই। ক্ষতি হয়েছে পরিমল বিশ্বাসেরও। ঘরের টিনের চাল উড়ে গিয়েছে। অন্যদিকে, তছনছ হয়েছে বিঘার পর বিঘা জমির ফসল। ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি পরিবারের হাতে রবিবার রাতে বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা দপ্তরের তরফে পলিথিন তুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাতে লাভ বেশি হয়নি। এদিকে, এর বেশি সাহায্য করা এখনই সম্ভব নয়, জানিয়েছে প্রশাসন। সেকারণে বাড়ির মহিলা এবং শিশুদের আত্মীয়ের বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। রবীন্দ্রনাথরা আশপাশের বাড়ির কয়েকজন মিলে বারান্দায় ত্রিপল টাঙিয়ে কোনওরকমে রাত কাটিয়েছেন। সোমবার আত্মীয়ের বাড়ি থেকে খাবার এসেছে তাঁদের জন্য।
চাকনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের মাথামোড়া গ্রামের বাসিন্দা বিজয়কুমার বিশ্বাস জানালেন, রবিবারের ঝড়ের পর চাকনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের মাথামোড়া এবং ডোবাখোকসান গ্রামের ছবিগুলোও একই। অন্যদের মতো তাঁর নিজের বাড়ির চালও উড়ে গিয়েছে। মাঠের মধ্যে শুয়ে পড়েছে ভুট্টা, ধান এবং পাট গাছ।
কারও রান্নাঘর উড়েছে, কারও বাড়ির গোয়ালের চাল উড়ে গিয়েছে। এবার রান্না কোথায় করবেন, গবাদি পশুদেরই বা কোথায় রাখবেন, ভাবছেন গ্রামের বাসিন্দারা। গবাদিপশুর খাবারের জন্য রাখা খড়ের গাদাও ঝড়ের দাপটে লন্ডভন্ড হয়ে গিয়েছে।
তবে বেশি ক্ষতি হয়েছে মাথামোড়া গ্রামের ছয়টি পরিবার এবং ডোবাখোকসান গ্রামের তিনটি পরিবারের। শোবারঘর, রান্নাঘরের চাল উড়ে চলে গিয়েছে তাঁদের। রবিবার রাতের মধ্যে ছয়টি পরিবারকে প্রশাসনের তরফে শুধুমাত্র ত্রিপল দিয়ে সাহায্য করা হয়েছে। সোমবার বাকি তিনটি পরিবারের ক্ষতির তালিকা দেওয়া হয়েছে, জানালেন বিজয়।
গাজোল (Gazole) ব্লক বিপর্যয় ব্যবস্থাপন দপ্তরের আধিকারিক সৌরভ দত্তও সরকারি সাহায্য না করতে পারার কথা স্বীকার করে নিলেন। তিনি বললেন, ‘যেহেতু বর্তমানে নির্বাচিন আচরণবিধি চালু রয়েছে, তাই পলিথিন ছাড়া অন্য কিছু দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ৪ মে ভোট গণনার পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সাহায্যের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ তাঁর সংযোজন, ‘আপাতত চাকনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ছয়টি পরিবারকে আমরা পলিথিন দিয়েছি। তবে পান্ডুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলি এখনও পর্যন্ত যোগাযোগ করেনি। নিজেদের উদ্যোগে তথ্য সংগ্রহ করে সোমবার বিকেলে আমরা তাঁদের বিডিও অফিসে আসতে বলেছি।’ প্রশ্ন উঠছে এই জায়গাতেই। নির্বাচনি আচরণবিধির মধ্যে পড়ে কেন ভুগতে হবে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষদের?
