Sand Stone Smuggling | আড়ালে বালি, পাথর পাচার, শিলতোর্ষায় সিন্ডিকেটচক্রের রমরমা

Sand Stone Smuggling | আড়ালে বালি, পাথর পাচার, শিলতোর্ষায় সিন্ডিকেটচক্রের রমরমা

খেলাধুলা/SPORTS
Spread the love


পলাশবাড়ি: ২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের শিলতোর্ষা নদী (Shiltorsha Rive) থেকে বালি, পাথর তোলার বৈধ রয়্যালটি ছিল। কিন্তু ২০২১-এর পর থেকে কখনও ডাম্পিং, কখনও ড্রেজিংয়ের অনুমতি নিয়ে এই নদীর বালি, পাথর তোলা হচ্ছে (Sand Stone Smuggling)। আর ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে মহাসড়কের কাজ শুরু হয়। এজন্য প্রচুর বালি, পাথর ও মাটির প্রয়োজন। তাই এই নদী থেকে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ রয়্যালটি পায়। কিন্তু এর বাইরে ব্যক্তিগত রয়্যালটি চালু নেই। তা সত্ত্বেও কখনও আড়ালে-আবডালে, কখনও প্রকাশ্যে ব্যক্তিগতভাবে অনেকেই বালি, পাথর পাচার করছে বলে অভিযোগ। সূত্রের খবর, জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ নদীতে আর্থমুভার নামিয়ে ডাম্পারে ডাম্পারে বালি, পাথর, মাটি তুলছে। সেই সুযোগে দুষ্কৃতীরাও নদী থেকে বালি, পাথর, মাটি পাচার করছে। এই পাচার নিয়ে তৈরি হয়েছে সিন্ডিকেটচক্র।

শিলতোর্ষা নদীর বালি, পাথর যে ট্রাক, ট্র্যাক্টর-ট্রলি করে পাচার হয় তা দেখেন পথচলতি মানুষ। স্থানীয়দের বক্তব্য, রোজ ভোর থেকে ফালাকাটা-সলসলাবাড়ি নির্মীয়মাণ মহাসড়ক হয়ে প্রচুর ট্রাক, ট্র্যাক্টর-ট্রলিতে বালি, পাথর পরিবহণ হয়৷ পলাশবাড়ি, মেজবিল, শিশাগোড়, আসাম মোড়, ফালাকাটা হয়ে সেইসব ট্রাক কোচবিহার জেলাতেও চলে যাচ্ছে। আবার ট্র্যাক্টরগুলি বিভিন্ন গ্রামের রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। শিশাগোড়ের বাসিন্দা মিঠুন সরকার বলেন, ‘আমরা তো জানি শিলতোর্ষা নদীতে এখন জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের রয়্যালটি আছে। আর মহাসড়কের কাজে মূলত ডাম্পারে করেই বালি, পাথর, মাটি পরিবহণ হয়। তবে ডাম্পারের পাশাপাশি প্রচুর ট্রাক, ট্র্যাক্টরও যাতায়াত করে।’ স্থানীয়দের ব্যাখ্যাতে স্পষ্ট, জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের অনুমতির আড়ালে অবাধে শিলতোর্ষার বালি, পাথর, মাটি পাচার হচ্ছে। বিএলএলআরও (আলিপুরদুয়ার–১) অভিজিৎ সুব্বা জানিয়েছেন, এই ব্লকে কোনও নদীতেই ব্যক্তিগত রয়্যালটি নেই। তাঁর কথায়, ‘শিলতোর্ষা নদীতে শুধু জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের ড্রেজিংয়ের অনুমতি আছে।’

কিন্তু তা সত্ত্বেও ট্রাকে বালি, পাথর পাচার হচ্ছে। এজন্য ঘন কুয়াশা পাচারকারীদের বড় সুযোগ করে দিচ্ছে। তবে মাঝেমধ্যে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর ও পুলিশ প্রশাসন বালি, পাথরের ট্রাক ধরে। কিন্তু গাড়ির চালকরা অধরাই থাকে। সূত্রের খবর, প্রশাসনের নজর এড়িয়ে শিলতোর্ষার বালি, পাথর খুব সকালের দিকেই বিনা রয়্যালটিতে বেশি পাচার হচ্ছে। এখন শিলতোর্ষা পাকা সেতুতে দাঁড়ালেই দেখা যায়, নদীর উভয় প্রান্ত এমনকি নদীর মাঝেও বালি, পাথর তুলছে আর্থমুভার দিয়ে। নদীতে দেখা যায় সারি সারি ডাম্পারও৷ তবে এই কাজ জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের। কিন্তু এর ফাঁকে পাচারকারীরাও নদী থেকে বালি, পাথর তুলে নিচ্ছে। কেউ কেউ ব্যক্তিগত মালিকানাধীন আর্থমুভারও নদীতে নামাচ্ছে বলে অভিযোগ। গারারজোতের বাসিন্দা গালু মুন্ডা বলেন, ‘নদীর চর দিনরাত আর্থমুভার দিয়ে কেটে ফেলা হচ্ছে। শিলতোর্ষা নদী থেকে মাঝেমধ্যে বালি, পাথর পাচার করছে।’

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পাচারকারীদের মধ্যে রীতিমতো সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে। সেই সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই কারবার চলছে। সিন্ডিকেটের কেউ কেউ রাস্তায় নজরদারি চালায়। কখন পুলিশ, ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের গাড়ি এলাকায় ঢোকে সেই খবর মুহূর্তের মধ্যে সিন্ডিকেটের সদস্যরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বাকিদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়। আবার প্রশাসন যখন কিছুটা কড়াকড়ি করে তখন বালি, পাথর তোলা কিছুটা কমে যায়। এসব নানা কৌশলেই শিলতোর্ষার বালি, পাথর লুট হচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *