Jalpaiguri | মাটির প্রদীপের অচ্ছে দিন ফিরছে, নিত্যনতুন ডিজাইনে মুগ্ধ জলপাইগুড়ি

Jalpaiguri | মাটির প্রদীপের অচ্ছে দিন ফিরছে, নিত্যনতুন ডিজাইনে মুগ্ধ জলপাইগুড়ি

খেলাধুলা/SPORTS
Spread the love


অনীক চৌধুরী, জলপাইগুড়ি: কয়েক বছর আগেও দীপাবলি মানেই ছিল চাইনিজ আলো। রংবেরংয়ের বিদেশি আলো দিয়েই বাড়িঘর সাজাতে বেশি পছন্দ করতেন সকলে। কিন্তু গতবছর থেকে সেই ট্রেন্ডে বদল এসেছে। মাটির প্রদীপের অচ্ছে দিন ফিরছে ধীরে ধীরে। মাটির তৈরি প্রদীপের নিত্যনতুন ডিজাইনে মুগ্ধ জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) শহরবাসী। রংবেরংয়ের অভিনব মাটির প্রদীপ বিক্রির টাকায় এবারের দীপাবলিতে ব্যবসায়ী এবং মৃৎশিল্পীদের নিজেদের বাড়িও আলোকিত হয়ে উঠবে, এমনটাই আশা করছেন তাঁরা।

একটা সময়ে দীপান্বিতা অমাবস্যায় বাঙালির ঘর আলোকিত করত মাটির প্রদীপ। মাটির প্রদীপে ভরে উঠত বাড়ির উঠোন। গতবছর থেকে অনেকটা সেই ট্র্যাডিশনই ফিরছে তিস্তাপারের শহরে। ফেসবুকে ট্রেন্ডিং থাকতে অনেকে মাটির প্রদীপ জ্বালিয়ে ছবি তুলে সেসব পোস্ট করছেন। সেই দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে বাকিরাও ভিড় জমাচ্ছেন মাটির প্রদীপ কিনতে। সেই কারণেও মাটির প্রদীপের বিক্রি কিছুটা বেড়েছে। তাছাড়া মাটিগাড়া থেকে আসা অভিনব ডিজাইনের প্রদীপ ছুঁয়েছে মানুষের মন। রয়েছে কুলো, চক্র, নারকেল বা ডাব, ঘট, হাতি, হ্যারিকেন প্রদীপ। বিভিন্ন মূর্তি প্রদীপও রয়েছে। আলপনার ডিজাইনের মধ্যে প্রদীপ বসানো রয়েছে, এমনও মিলছে বাজারে। সেইসঙ্গে চিরাচরিত স্ট্যান্ড প্রদীপ, গাছ প্রদীপ, পঞ্চপ্রদীপ তো রয়েইছে। এত ধরনের প্রদীপ দেখে মুগ্ধ বৃষ্টি ঘোষ। তরুণীর কথায়, ‘এখন প্রদীপ জ্বালানোর চল অনেকটাই কমেছে। আমারও খুব একটা প্রদীপ কেনা হয় না। কিন্তু এবার এই প্রদীপগুলো দেখে না কিনে পারলাম না। বিশেষ করে গাছ প্রদীপ এবং পাখির বাসার আকারের প্রদীপগুলো বেশি ভালো লেগেছে। সেইসঙ্গে পাশ দিয়ে ছোট ডিজাইনার প্রদীপও নিয়েছি। এগুলো দিয়ে উঠোন সাজালে খুব ভালো লাগবে।’

জলপাইগুড়ির বাজারে মাটির নানা ডিজাইনের প্রদীপের চাহিদার কথা মাথায় রেখে মাটিগাড়ার কুমোরপাড়ায় এখন ব্যস্ততার হিড়িক। চাহিদা অনুযায়ী জোগান দিতে কুমোরপাড়ার শিল্পীরা নানা ডিজাইনের প্রদীপ তৈরি করছেন। মৃৎশিল্পী তথা বিক্রেতা মহাদেব পাল বলেন, ‘কয়েকবছর আগে চাইনিজ আলোর জন্য আমাদের ব্যবসা তলানিতে নেমে গিয়েছিল। এখন সেই পরিস্থিতি কিছুটা হলেও ভালো। অনেকেই প্রদীপ কিনতে আসছেন। নানা ডিজাইনের প্রদীপের অর্ডার দিয়ে যান। শহরের দোকানিরা আলপনা প্রদীপ, স্ট্যান্ড প্রদীপ, পঞ্চ, সপ্ত প্রদীপের অর্ডার দিচ্ছেন। রঙিন প্রদীপেরও চাহিদা রয়েছে।’ হাসি হাসি মুখে বললেন, ‘যে পরিমাণ প্রদীপ নিয়ে এসেছিলাম, সেগুলোর অনেকটাই শেষ। আবারও আনতে হবে।’

আরেক শিল্পী দুলাল পালও একই কথা বললেন। তিনিও মাটিগাড়া থেকে অর্ডার দিয়ে প্রদীপ আনিয়েছেন। সেখানকার শিল্পীরা ভালো ডিজাইনের প্রদীপ বানান। আর অভিনব হওয়ায় সেগুলো বিক্রিবাটাও ভালো হয়। পাঁচ টাকা থেকে চারশো টাকা পর্যন্ত প্রদীপ রয়েছে। তুলনামূলক বেশি দাম দিয়ে মাটি কিনতে হওয়ায় কিছুটা সমস্যায় শিল্পীরা। ৫ টাকা থেকে শুরু করে ৬০০ টাকা পর্যন্ত রয়েছে প্রদীপের দাম। কিন্তু প্রদীপের নতুনত্ব মানুষের মন জয় করবে বলে আশা বাবলু পালের মতো শিল্পীদের।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *