SIR | জঙ্গলঘেরা সরস্বতীপুর চা বাগানের গাছ তলায় চলছে এসআইআরের কাজ, হিমসিম খাচ্ছেন বিএলও   

SIR | জঙ্গলঘেরা সরস্বতীপুর চা বাগানের গাছ তলায় চলছে এসআইআরের কাজ, হিমসিম খাচ্ছেন বিএলও   

শিক্ষা
Spread the love


বেলাকোবাঃ বৈকুন্ঠপুর জঙ্গল ঘেরা সরস্বতীপুর চা বাগান। সারা রাজ্যের সঙ্গে এই প্রত্যন্ত এলাকাতেও চলছে এসআইআরের কাজ। রাজগঞ্জ ব্লকের মান্তাদারি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ১৮/১৪ গুদাম লাইন সরস্বতীপুর পাটের এসআইআর-এর ফর্ম ফিল-আপ চলছে চা বাগানের গাছের তলায় বসেই। ফলে চরম ভোগান্তিতে বাগান শ্রমিকরা। এই বাগানের চা শ্রমিকরা পাতা তোলার অবসর সময়ে এসে ভিড় জমাচ্ছেন বিএলওর কাছে।

সরস্বতীপুর গুদাম লাইন পার্টির ভোটার সংখ্যা ১৪১৮। সিংহভাগ ভোটারই চা বাগানের আদিবাসী শ্রমিক। ভোরে কাজে যোগ দিতে হয় বলে তাঁরা শুধুই মধ্যাহ্নভোজের ক্ষণিক বিরতিতে এসে ফর্ম পূরণ করতে পারছেন। আর এই অল্প সময়ে শত শত শ্রমিককে সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন বিএলও।

এদিকে বাংলা না জানায় সমস্যায় পড়ছেন চা বাগানের সিংহভাগ আদিবাসী ভোটার। ফর্ম শুধুমাত্র বাংলায় থাকায় সমস্যা আরও বাড়ছে। এলাকার বহু বাসিন্দাই বাংলা পড়তে বা লিখতে পারেন না। ফলে ফর্মের খুঁটিনাটি অংশ বুঝিয়ে পূরণ করাতে দীর্ঘ সময় লাগছে বিএলওদের। ভুল হলে আবার তা সংশোধন করতে হচ্ছে, যা সময়সাপেক্ষ। এমনই একাধিক সমস্যার কথা তুলে ধরলেন সংশ্লিষ্ট বিএলও।

বিএলও বলেন, ‘প্রতিদিন বেলাকোবা থেকে ২৫ কিলোমিটার দূর পথ পেরিয়ে এখানে এসে বৈকুণ্ঠপুর জঙ্গল লাগোয়া এই চা বাগানে এসআইআরের কাজ করতে হচ্ছে। এই এলাকা আমার পরিচিত নয়। এখানে রয়েছে বন্যপ্রাণীর ভয়। যখন তখন জঙ্গল থেকে হাতি চলে আসে লোকালয়ে। সবচেয়ে বড় সমস্যা এলাকার চা শ্রমিকরা বাংলা জানে না। বাড়ি বাড়ি যাওয়ার পরিবর্তে বাগিচা শ্রমিকদের চাপে পড়ে বনভূমির মধ্যে বসে কাজ করতে হচ্ছে, যা সত্যিই কঠিন। এরপর বাড়ি গিয়ে রাত বারোটা একটা পর্যন্ত আপলোড করতে হচ্ছে ফর্মগুলি।’

সরস্বতীপুর চা বাগান এলাকায় নেই কোন সহায়তা কেন্দ্র। অবস্থার সামাল দিতে স্বেচ্ছায় এগিয়ে এসেছেন এলাকার কিছু মানুষজন। যাতে দ্রুত কাজ এগোয় এবং শ্রমিকদের সময় কম নষ্ট হয়।

স্থানীয় বাগান শ্রমিক রেখা মুন্ডা, বিতেন ওরাওঁরা বলেন, ‘সকাল সাতটা থেকে এগারোটা, আবার একটা থেকে সাড়ে চারটা পর্যন্ত বাগানের কাজ করতে হয়। দুই ঘন্টা খাবার ছুটি। এক জায়গায় এসআইয়ের কাজ হওয়াতে আমাদের খুব উপকার হয়েছে’।

তাঁদের অভিযোগ, ‘আমরা বাংলা পড়তে পারি না অথচ ফর্ম করা হয়েছে বাংলাতে। এত বড় এলাকা, এত ভোটার, অথচ একটা উপযুক্ত ভোটার সহায়তা কেন্দ্র নেই।’ জঙ্গলের ভিতর বসে কাজ করা কি নিরাপদ? এই প্রশ্নও তুলেছেন চা শ্রমিকরা।

মান্তাদারী অঞ্চলের উপপ্রধান রামু ওরাওঁ বলেন, “আমাদের পূর্বপুরুষদের ভিনরাজ্য থেকে এনে এই চা বাগান গড়েছে। আমরা ভারতীয়। আমাদের একজন ভোটারও যেন নাম বাদ না পড়ে, সেটা আমরা নিশ্চিত করেই ছাড়ব।”



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *