পুরাতন মালদা: পুরাতন মালদা (Previous Malda) পুরসভার কথা উঠলেই প্রসঙ্গ ওঠে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার। বলা হয়, দেড়শো বছরেও বর্জ্য ফেলা নিয়ে নিজস্ব পরিকাঠামো গড়ে তুলতে পারেনি পুরসভা (Previous Malda Municipality)। সেই বহু বছরের পুরোনো সমস্যার সমাধানের দিশা দেখিয়েছিল পুর বোর্ড। শহর সংলগ্ন ভাবুক গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ভাগাড়ের জন্য জমি দেখা হয়েছিল। কিন্তু বিধি বাম, সেই নির্ধারিত জায়গায় আবর্জনা ফেলা শুরু হতে না হতেই তা আটকে গেল স্থানীয় বাসিন্দা ও সেখানকার পঞ্চায়েত প্রধানের বাধায়। ফলত, শহরের আবর্জনার সমস্যা যে তিমিরে ছিল, সে তিমিরেই রয়ে গেল।
গত দু’দিন ধরে ভাবুকের সেই জায়গায় আবর্জনা ফেলার উদ্যোগ নিয়েছিল পুরসভা। আর পরপর দু’দিনই আবর্জনা ফেলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রধানের রোষের মুখে পড়েছেন পুরাতন মালদা পুরসভার সাফাইকর্মীরা। গত শুক্র ও শনিবার পুরসভার আবর্জনাবোঝাই গাড়ি ভাবুক গ্রাম পঞ্চায়েতের বেহুলা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় আটকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সাফাইকর্মীদের হুমকি দেওয়া হয়েছে, ভয় দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। গাড়ি আটককে কেন্দ্র করে সাফাইকর্মী ও স্থানীয়রা বচসায় জড়িয়ে পড়েন। তবে উত্তেজনা বেশিদূর গড়ায়নি। পুরসভার নির্দেশমতো সাফাইকর্মীরা আবর্জনা না ফেলেই সেখান থেকে চলে এসেছেন। গণেশপ্রসাদ মাহাতো
নামে পুরসভার এক সাফাইকর্মী বলেন, ‘আমরা গাড়িতে করে আবর্জনা ফেলতে গেলে গ্রামবাসীরা এসে বাধা দেন আর আমাদের হুমকিও দেন।’ আর এভাবে পরপর দু’দিন পুরসভার নির্দিষ্ট জায়গায় আবর্জনা ফেলতে বাধা দেওয়ায় বেজায় ক্ষুব্ধ পুরাতন মালদা পুরসভার চেয়ারম্যান বিভূতিভূষণ ঘোষ। চেয়ারম্যানের দাবি,
এভাবে আবর্জনা ফেলা রুখে দেওয়ার পিছনে রাজনীতি রয়েছে। বিজেপি পরিচালিত পঞ্চায়েতের বোর্ড উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ। চেয়ারম্যানের কথায়, ‘ভাবুকের (Bhabuk) ওই জায়গাটি পুরসভার। অথচ প্রধান ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর লোকজন পাঠিয়ে আমাদের আবর্জনা ফেলতে দিচ্ছেন না।’ আর এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বিজেপির পঞ্চায়েত প্রধান প্রভুনাথ দুবের দাবি, ‘পঞ্চায়েতের সঙ্গে পুরসভার যে চুক্তিটা হয়েছে সেই চুক্তি অনুযায়ী কাজ না করার জন্যই আমি আবর্জনা ফেলতে দিইনি।’
পুরসভা সূত্রে খবর, ভাবুক গ্রাম পঞ্চায়েতের রাঙ্গামাটিয়ায় বেহুলা সেতু সংলগ্ন এলাকায় এক একর জমি দু’বছর আগে জেলা প্রশাসনের তরফে পুরসভাকে হস্তান্তর করা হয়। পুরসভার লক্ষ্য ছিল ওই জায়গায় স্থায়ী ভাগাড় তৈরি করে কঠিন বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের কাজ এবং জৈব সার উৎপাদন করা। কিন্তু বারবার টেন্ডার হলেও সেই কাজ আটকে যায় বলে জানিয়েছেন পুরসভার চেয়ারম্যান। নতুন করে প্রায় ৩ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে আরেকটি টেন্ডার করা হয়েছে। তবে কাজ শুরু হয়নি।
এদিকে, ওই জমি সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা সুকুমার সাহার সাফ কথা, ‘বিকেল হলে আমরা বেহুলা সেতুর আশপাশে একটু আড্ডা দিতে যাই। ওখানে যদি আবর্জনা ফেলা হয় তাহলে দুর্গন্ধে টেকা যাবে না।’ আরেক বাসিন্দা দীপালি বিশ্বাস বলেন, ‘দু’দিন আগে দেখলাম আমার বাড়ির কাছে ট্র্যাক্টর-ট্রলিতে করে আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। গ্রামবাসীরা বাধা দেওয়ার পর এখন আর ফেলছে না। যদি এভাবে খোলা জায়গায় আবর্জনা ফেলে তাহলে আমরা দুর্গন্ধে থাকতে পারব না।’
পঞ্চায়েত প্রধান প্রভুনাথ দুবে পুরসভা ও পঞ্চায়েতের মধ্যে আবর্জনা ফেলা নিয়ে চুক্তির কথা মেনে নিয়েছেন। তবে তাঁর বক্তব্য হল, ‘চারদিকে বাউন্ডারি ওয়াল দিয়ে মেশিন বসিয়ে বর্জ্য পৃথকীকরণ করার কথা। কিন্তু পুরসভা খোলা জায়গায় কয়েক গাড়ি আবর্জনা ফেলেছে। গত শনিবার আবার আবর্জনা ফেলতে এলে আমি লোক পাঠিয়ে বাধা দিয়েছি।’ তাঁর যুক্তি, ‘আমরা চাই আমাদের পঞ্চায়েত এলাকা স্বচ্ছ থাকুক। আমরা চাই না পুরসভা খোলা জায়গায় আবর্জনা ফেলুক।’
এই আবর্জনা ফেলার সমস্যার সমাধানের জন্য সোমবার জেলা শাসকের দপ্তরে একটি বৈঠক ডাকা হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেন অতিরিক্ত জেলা শাসক, পুরসভার চেয়ারম্যান, পুরাতন মালদার বিডিও ও ভাবুক পঞ্চায়েতের আধিকারিকরা। যদিও বিডিও অনীক রায়কে রবিবার প্রশ্ন করা হলে বলেন, ‘এবিষয়ে আমার জানা নেই। পুরসভা এবং পঞ্চায়েতের কাছ থেকে খোঁজ নিয়ে দেখব।’

