Scholar scholarship harassment | ইনকাম সার্টিফিকেট পেতে চরম হয়রানির অভিযোগ! চ্যাংরাবান্ধায় এশিয়ান হাইওয়ে অবরোধ করে বিক্ষোভ পড়ুয়াদের

Scholar scholarship harassment | ইনকাম সার্টিফিকেট পেতে চরম হয়রানির অভিযোগ! চ্যাংরাবান্ধায় এশিয়ান হাইওয়ে অবরোধ করে বিক্ষোভ পড়ুয়াদের

শিক্ষা
Spread the love


চ্যাংরাবান্ধা : স্কলারশিপের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘ইনকাম সার্টিফিকেট’ বা আয় শংসাপত্র সময়মতো না পাওয়া এবং ব্লক অফিসের কর্মীদের বিরুদ্ধে চরম দুর্ব্যবহারের অভিযোগে শুক্রবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল কোচবিহার জেলার চ্যাংরাবান্ধা (Scholar scholarship harassment)। মেখলিগঞ্জ ব্লকের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের বিক্ষুব্ধ ছাত্রছাত্রীরা সার্টিফিকেট পাওয়ার দাবিতে এদিন মেখলিগঞ্জ ব্লক অফিসের ঠিক সামনে এশিয়ান হাইওয়ের (Asian Freeway) ওপর বসে পড়ে দীর্ঘক্ষণ পথ অবরোধে সামিল হন। এই আকস্মিক অবরোধের ফলে এশিয়ান হাইওয়েতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে বাস, ছোট গাড়ি, ট্রাক, বাইক ও টোটো আটকে পড়ে চরম ভোগান্তির শিকার হন সাধারণ যাত্রীরা। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে মেখলিগঞ্জ থানার পুলিশ।

মেখলিগঞ্জ ব্লকের বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা থেকে বহু কৃতি ও মেধাবী ছাত্রছাত্রী বিভিন্ন সরকারি স্কলারশিপের আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় ইনকাম সার্টিফিকেট পেতে অনলাইনে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু অভিযোগ, অনলাইনে আবেদনের পর দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও তাঁরা সার্টিফিকেট হাতে পাননি।

বিক্ষুব্ধ পড়ুয়াদের ক্ষোভের প্রধান কারণগুলি হলো, বহু পড়ুয়া ৩ থেকে ৪ বার ব্লক অফিসে চক্কর কেটেও কোনো সুরাহা না পেয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হয়েছেন। ব্লক অফিসের কর্মচারীদের কাছে সার্টিফিকেটের বিষয়ে জানতে গেলে তাঁরা পড়ুয়াদের সঙ্গে অত্যন্ত খারাপ ও অবমাননাকর আচরণ করছেন বলে অভিযোগ। কাজের সময়ে কর্মীরা খাওয়া-দাওয়া বা শৌচাগারে যাওয়ার অছিলায় দিনের পর দিন পড়ুয়াদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাইরে বসিয়ে রাখছেন। এমনকি কিছু কর্মীর বিরুদ্ধে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় অভব্য আচরণের চাঞ্চল্যকর অভিযোগও তুলেছেন ছাত্রছাত্রীরা।

মেখলিগঞ্জ ইন্দিরা গার্লস হাই স্কুলের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী জ্যোতি রায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ইনকাম সার্টিফিকেটের জন্য এই নিয়ে চারবার ব্লক অফিসে এলাম। অথচ সার্টিফিকেট তো দূরঅস্ত, সমানে আমাদের ঘোরানো হচ্ছে। সামনেই আমাদের পরীক্ষা, পড়াশোনা ছেড়ে অফিসে পড়ে থাকতে হচ্ছে।” কুচলিবাড়ি উপনচৌকি হাই স্কুলের আর এক ছাত্রী স্বস্তিকা রায় জানান, “গত চার দিন ধরে প্রতিদিন সকাল ৮টায় এসে রাত ৮টায় বাড়ি ফিরছি। আজকেও সকাল থেকে না খেয়ে বসে আছি, কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না।” মেখলিগঞ্জ ইন্দিরা গার্লস হাইস্কুলের অপর ছাত্রী সঞ্চিতা অধিকারী অভিযোগ করেন, “অঞ্চল অফিসে সহজেই কাজ হয়ে গেলেও বিডিও অফিসে এসে হেনস্থা হতে হয়। এসির হাওয়ায় আরাম করে বসে থেকে কর্মচারীরা আমাদের রোদে দাঁড় করিয়ে রাখেন।”

পড়ুয়াদের দীর্ঘক্ষণ এশিয়ান হাইওয়ে অবরোধ করে রাখার ফলে যাতায়াত সম্পূর্ণ থমকে যায়। আটকে পড়া এক বাসকর্মী মইজার রহমান আক্ষেপ করে বলেন, “দীর্ঘ সময় রাস্তায় আটকে ছিলাম। তবে পড়াশোনা ছেড়ে কচিকাচাদের এভাবে বিডিও অফিসের সামনে হেনস্থা হওয়ার বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে শেষ পর্যন্ত ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে হস্তক্ষেপ করা হয়। বিডিওর সঙ্গে কথা বলার পর এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত সমস্ত সার্টিফিকেট তৈরি করে দেওয়ার জোরালো আশ্বাসের পরই মেখলিগঞ্জ থানার পুলিশের মধ্যস্থতায় পড়ুয়ারা অবরোধ তুলে নেন। এর পরই এশিয়ান হাইওয়েতে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে সরকারি কর্মীদের এই চরম গাফিলতি ও দুর্ব্যবহারের বিষয়ে মেখলিগঞ্জের বিডিও-র পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি। ব্লক অফিস সূত্রে অবশ্য জানানো হয়েছে, দ্রুত সমস্ত পড়ুয়ার কাগজপত্রের কাজ সম্পন্ন করে দেওয়া হবে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *