সামসী: পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের প্রায় ৭৪ লক্ষ টাকার কাজের টেন্ডার এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে চাঁচল-১ ব্লকে প্রশাসন বনাম পঞ্চায়েত সমিতির জনপ্রতিনিধিদের সংঘাত চরমে উঠল (Chanchal-1 BDO controversy)। পঞ্চায়েত সমিতিকে পুরোপুরি অন্ধকারে রেখে টেন্ডার করা এবং কোনো রেজুলেশন ছাড়াই বিভিন্ন জায়গায় কাজ শুরু করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ব্লক প্রশাসনের বিরুদ্ধে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের গুরুত্ব না দেওয়া এবং তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদে খোদ বিডিও পৌষালী চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ‘একনায়কতন্ত্র’ চালানোর অভিযোগ তুলে শুক্রবার তাঁর কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভে সামিল হন পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যরা। বিশেষত, এই আন্দোলনে শাসক ও বিরোধী শিবিরের জনপ্রতিনিধিদের একসঙ্গে হাত মেলাতে দেখা যাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
আন্দোলনের মূল বিষয়গুলি এক নজরে:
- বিক্ষোভে কারা ছিলেন? চাঁচল-১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অঞ্জনা সাহা, সহ-সভাপতি জাকির হোসেন, বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস নেতা মহম্মদ আলাউদ্দিনসহ শাসক ও বিরোধী শিবিরের একাধিক সদস্য।
- প্রধান অভিযোগ: পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের প্রায় ৭৪ লক্ষ টাকার একাধিক কাজের টেন্ডার ও কাজ শুরু হয়ে গেলেও পঞ্চায়েত সমিতিকে জানানো হয়নি। এর জন্য কোনো রেজুলেশনও নেওয়া হয়নি।
- বিডিওর বিরুদ্ধে ক্ষোভ: নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা এবং একতরফাভাবে ব্লক চালানোর অভিযোগ।
- বিপক্ষের প্রতিক্রিয়া: বিজেপির উত্তর মালদা যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক প্রসেনজিৎ শর্মার দাবি, আগে কাজের ভাগ-বাটোয়ারা না পাওয়ার জন্যই শাসক ও বিরোধীরা একসঙ্গে এই নাটক করছে।
- প্রশাসনের অবস্থান: বিক্ষোভের সময় বিডিও পৌষালী চক্রবর্তী অফিসে উপস্থিত থাকলেও তিনি বাইরে এসে কথা বলেননি বা সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হননি।
এদিনের বিক্ষোভ চলাকালীন চাঁচল-১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অঞ্জনা সাহা বলেন, “আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। অথচ আমাদের কোনো গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। প্রায় ৭৪ লক্ষ টাকার কাজ হচ্ছে, অথচ পঞ্চায়েত সমিতিই জানে না। আমাদের সঙ্গে আলোচনা বা রেজুলেশন ছাড়াই কীভাবে এই কাজের টেন্ডার হলো এবং কাজ শুরু হলো, সেটাই আমাদের প্রশ্ন। সরকারি অর্থের স্বচ্ছতা ও সঠিক ব্যবহারের স্বার্থেই আমরা প্রশাসনের কাছে জবাবদিহি চেয়েছি।”
সহ-সভাপতি জাকির হোসেন জানান, “নির্বাচিত সদস্যদের পাশ কাটিয়ে উন্নয়নমূলক কাজ করা হলে জনপ্রতিনিধিদের আর কোনো অস্তিত্ব থাকে না। জনগণের কাছে আমাদের জবাবদিহি করতে হয়, তাই কাজের ক্ষেত্রে সমন্বয় ও স্বচ্ছতা জরুরি।”
বিরোধী দলনেতা মহম্মদ আলাউদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনপ্রতিনিধিদের এভাবে উপেক্ষা করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সরকারি তহবিলের সঠিক হিসাব এবং কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আমরা ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করছি।”
অন্যদিকে, পুরো ঘটনাটি নিয়ে ব্লক প্রশাসনের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও, চাঁচল-১ বিডিও কার্যালয় চত্বর জুড়ে চলা এই নজিরবিহীন যৌথ বিক্ষোভকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে।

