উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশও তাঁর কাছে তুচ্ছ! তিনি প্রশান্ত বর্মন (Prashanta Barman)। সুপ্রিম ডেডলাইন পার, তবুও আত্মসমর্পণ করলেন না খুনে অভিযুক্ত প্রাক্তন বিডিও প্রশান্ত বর্মন! এবার তবে কী? একসময়ে স্বঘোষিত ‘দাবাং’ বিডিও হিসেবে পরিচিত ছিলেন প্রশান্ত বর্মন। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল, শুক্রবারের (২৩ জানুয়ারি) মধ্যে বিধাননগর মহকুমা আদালতে আত্মসমর্পণ করতেই হবে। কিন্তু সেই চূড়ান্ত ‘ডেডলাইন’ পেরিয়ে গেলেও তিনি ধরা দিলেন না। ফলে প্রশাসনিক আধিকারিক থেকে সোজা ‘ফেরারি’ আসামির তকমা আরও পোক্ত হলো তাঁর গায়ে।
সল্টলেকের দত্তাবাদের স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে নাম উঠে এসেছে এই আমলার। গত ২৯ অক্টোবর নিউটাউনের খালধার থেকে দেহ উদ্ধারের পর থেকেই তিনি চর্চায়। মৃতের পরিবার তাঁকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। অথচ, প্রশাসনের একজন দায়িত্বশীল আধিকারিক হয়েও তিনি আইনের পথে না হেঁটে ক্রমাগত লুকোচুরির পথ বেছে নিয়েছেন।
এর আগে নিম্ন আদালত থেকে আগাম জামিন পেলেও কলকাতা হাইকোর্ট তা খারিজ করে দেয় এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশ অমান্য করে তিনি গা ঢাকা দেন। এরপর মাথায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েও লাভ হয়নি। বিচারপতি রাজেশ বিন্দল ও বিচারপতি বিজয় বিষ্ণোইয়ের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছিল, ২৩ জানুয়ারির মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিচারালয়ে আত্মসমর্পণ করতেই হবে।
শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অমান্য করায় প্রশান্ত বর্মনের আইনি জটিলতা যে কয়েক গুণ বাড়ল, তা বলাই বাহুল্য। প্রশাসন ইতিমধ্যেই রাজগঞ্জে নতুন বিডিও নিয়োগ করে তাঁর বিকল্প ব্যবস্থা করে ফেলেছে। এখন প্রশ্ন, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ অবমাননার পর পুলিশ এবার কী কঠোর পদক্ষেপ নেবে? পলাতক এই ‘হাই-প্রোফাইল’ অভিযুক্তের পরবর্তী পদক্ষেপই বা কী হবে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।
