উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: মালদার মোথাবাড়িকাণ্ডে তদন্তের পরিধি আরও বাড়িয়ে দিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ (NIA)। এই ঘটনায় এবার জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা সুজাপুরের বর্তমান বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন (Sabina Yeasmin NIA summons)। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর তাঁকে তদন্তকারী সংস্থার সামনে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে এই একই ঘটনায় বিধায়কের স্বামী মেহবুব আলমের নাম জড়িয়েছিল এবং গত অগাস্ট মাসে তিনি এনআইএ কার্যালয়ে হাজিরাও দিয়েছিলেন। এবার খোদ বিধায়ককে তলব করায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা।
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন শুরুর প্রাক্কালে মালদার কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া চলাকালীন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি থাকা সত্ত্বেও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে— এই অভিযোগে বিডিও অফিসে বিচারকদের দীর্ঘক্ষণ আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখানো হয়। শুধু তাই নয়, ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করেও ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়। পরবর্তী সময়ে আটকে পড়া বিচারকদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁদের গাড়ির ওপরও হামলা চালানো হয়। মহিলা বিচারক সহ একাধিক বিচারকের ওপর এই ধরনের হেনস্তার ঘটনার পর স্বতঃপ্রণোদিতভাবে তদন্তের দায়িত্বভার নিজেদের হাতে নেয় এনআইএ।
এই ঘটনার তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই মোট ১২টি মামলা রুজু করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। যার মধ্যে দুটি পৃথক মামলায় আদালতে চার্জশিটও জমা দেওয়া হয়েছে। প্রথম চার্জশিটটি ৫৪ পাতার এবং তাতে ২২ জন অভিযুক্তের নাম রয়েছে। পাশাপাশি, দ্বিতীয় চার্জশিটটি ১১ পাতার এবং তাতে ১ জন অভিযুক্তকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে চার্জশিটে মোট ২৩ জন অভিযুক্তের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) একাধিক ধারায় মামলাগুলি রুজু করা হয়েছে।
এর আগে বিধায়কের স্বামী মেহবুব আলমের তলব ও হাজিরা দেওয়ার পর এবার খোদ সাবিনা ইয়াসমিনকে তলব করার ফলে মামলার তদন্ত যে আরও গভীর হচ্ছে, তা স্পষ্ট। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর এনআইএ আধিকারিকরা তাঁকে ঠিক কী বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং এই ঘটনার রাজনৈতিক জল কতদূর গড়ায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

